রাউজান নিউজ

রাউজানের টিপু সুলতানের তার্কির খামার আশা জাগচ্ছে অন্যদের

মীর আসলাম.(রাউজাননিউজ).

অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে রাউজানের টিপু সুলতান ১৯৮৮ সালে গিয়েছিলে সৌদি আরবে। সেখানে তিনি সেখানে কাজ করতেন নিদিষ্ট বেতনে। ওই বেতনে খাওয়া পড়া মোটামুটি সম্ভব হলেও সব সময় ভাবতেন বাড়তি আয়ের জন্য কিছু করা নিয়ে। এই নিয়ে তিনি ইন্টারনেটে প্রবেশ করে বিভিন্নমুখি অত্ম কর্মসংস্থান বিষয়ক তথ্য সংগ্রহ করতেন। এক সময় তিনি রপ্ত করেন বিদেশি জাতের মুরগি ও তার্কি পালনের বিষয়ের উপর জ্ঞান। বিষয়টি তিনি শেয়ার করেন দেশের বাড়ীতে অবস্থান করা স্ত্রী পরভিন আকতারের সাথে। প্রবাসী স্বামীর প্রস্তাব পেয়ে তিনি রাজি হন বাড়ীতে খামার প্রতিষ্ঠা করতে। স্বামীকে অশ্বস্থ করেন খামার পরিচালনায় মাঝে মধ্যে ফোনে দিক নিদ্দেশনা দিলে তিনি সফল হতে পারবেন।।

প্রবাসী স্ত্রীর আগ্রহ দেখে অনলাইনে যোগাযোগ করে প্রথমে কিনে দেন ৪ জোড়া তার্কি। ওসব তার্কি তার বাড়ীতে এসে সরবরাহ দিয়ে যায় ঢাকার একটি প্রতিষ্ঠান। প্রথমে তার্কি পালনে ওই গৃহীনীর কিছুটা অসুবিধা হলেও পরবর্তীতে ওসব তার্কি পরিবারের সদস্য করে নেয় পারভিন। তিনি সন্তানের মত করে লালন পালন করে এসব তার্কি বড় করেন। তিনি পর্যায়ক্রমে খামারের তার্কির সংখ্যা বাড়ায়। এরমধ্যে সৌদি আরবের শ্রম বাজারে মন্দাভাব বিরাজমান থাকায় গত বছর দেশে ফিরে আসেন টিপু সুলতান। দেশে এসে তিনিও মনোযোগ দেন বড় পরিসরে তার্কির খামার প্রতিষ্ঠার দিকে। পুরানো তার্কির সাথে সংযুক্ত করেন নতুন তার্কির বাচ্চা। খামার যোগ করেছেন উন্নত জাতের দেশি বিদেশি মুরগি। খামারটিকে সম্প্রসারণে তৈরী করছে নতুন ঘর। দেখা গেছে টিপু সুলতানের খামারে এখন শতাধিক তার্কিসহ বিভিন্ন জাতের মুরগির রয়েছে। তিনি এই খামার থেকে বিক্রির পাশাপাশি আগ্রহীদের কাছে বাচ্চা সরবরাহ করে আসছে।

প্রবাস ফেরত খামারী টিপু সুলতানের সাথে কথা বলে জানা যায়, কাংঙ্খিত পূজির অভাবে তিনি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের দিকে যেতে পাচ্ছেন না। সহজ শর্তে ঋন পাওয়া গেলে তিনি তার্কি,উট পাখি পালনে দেশের মধ্যে সফলতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারবেন। জানা যায়, টিপু সুলতান দেশে এসে নিজের খামারটি সমৃদ্ধ করতে কিনে নিয়েছিলেন দুই জোড়া উট পাখির বাচ্চা। প্রতি জোড়া ৬০ হাজার টাকা দিয়ে কেনা দুটি উট পাখি কিছুদিনের মধ্যে মারা যায় অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত হয়ে। প্রথমবারের মত উট পাখি পালন করতে গিয়ে অভিজ্ঞতার ঘাটতি থাকায় এই ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি জানান। বলেন অবশিষ্ট দুটি উট পাখির জীবনের ঝুকি না নিয়ে এগুলো উন্নত পরিবেশে পালনের জন্য দেয়া হয়েছিল পাশ্ববর্তী এলাকায় রাউজানের সাংসদ এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর খামার বাড়ীতে। দুটি উট পাখির পেয়ে সাংসদ তাকে পাখি দুটি দাম হিসাব করে দিয়ে দিয়েছেন। বর্তমানে সাংসদের খামার বাড়ীতে প্রতিটি উট পাখি ওজন পঞ্চাশ কেজি হয়েছে বলে তিনি জানান। তিনি জানান প্রতি বছর পরিণত বয়স হলে প্রতিটি উট পাখি ৬০টি ডিম দিয়ে থাকে। পরবর্তী বছর থেকে ডিমের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। ডিম থেকে উৎপাদন করা গেলে এই খাত থেকে লাখ লাখ টাকা উপার্জন সম্ভব।

এই খামারী বলেন উট পাখি ও তার্কি পালনের মাধ্যমে অনেক পরিবার স্বাবলম্বি হওয়ার সুযোগ রয়েছে। দরকার সরকারের সহযোগিতা। সহজ শর্তে খামারীদের ঋন দিয়ে ও বিদেশ থেকে উট পাখি আমদানির করার কম শুল্কে সুযোগ দেয়া হলে খামারীরা এখানে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হবে। প্রবাস ফেরত টিপু সুলতান বলেন সরকার প্রবাসীদের কল্যাণে প্রবাসী ব্যাংক ও বেকারদের পূনবাসনের সহায়তায় কর্মসংস্থান ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করছেন। এই দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রবাসী উদ্্েযাক্তদের সহজ শর্তে ঋন প্রদান করলে প্রতিটি গ্রামের মানুষ উপকৃত হবে। খামারী টিপু সুলতানের ফোন নং ০১৮৬৪১৯৭৫৩০