রাউজান নিউজ

লালমনিরহাটে বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে: তিস্তা পাড়ে আতঙ্ক

রাউজান নিউজ ডেস্ক।। 

লালমনিরহাটে বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে: তিস্তা পাড়ে আতঙ্ক। ভারী বর্ষণ ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে তিস্তা, ধরলা ও সানিয়াজান নদীর পানি আবারও বৃদ্ধি পাওয়ায় লালমনিরহাটের ৫ উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। বন্যার পানিতে নদীর তীরবর্তী এলাকা গুলোর প্রায় ২২ হাজার মানুষ বন্দি হয়ে পড়েছে। জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার সানিয়াজান, গড্ডিমারী, সিঙ্গিমারী, সির্ন্দুনা, পাটিকাপাড়া ও ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নে বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে।

জেলার ওই উপজেলার পানি বন্দি পরিবার গুলো মাঝে বিশুদ্ধ পানি ও খাবার তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এখন পর্যন্ত তাদের মাঝে কোন ত্রাণ বিতরণ করা হয়নি। পানি বন্দি লোকজনের অভিযোগ, ত্রাণ বিতরণ তো দুরের কথা, জনপ্রতিনিধি বা সরকারি কর্মকর্তারা কেউ দেখতেও আসেনি।

গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তিস্তা নদী পানি আবারও বাড়তে শুরু করে। জেলার হাতীবান্ধায় অবস্থিত দেশের বৃহৎতম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের দোয়ানী পয়েন্টে বৃহস্পতিবার রাতে ৮ টায় বিপদ সীমার ১১ সেঃ মিঃ উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হতে থাকে ।

পানি উন্নয়ন বোর্ড দোয়ানী-ডালিয়া সুত্র জানা গেছে, তিস্তা পাড়ের লোকজনের মাঝে আতংক বিরাজ করছে। ভারত গজল ডোবা ব্যারাজের অধিকাংশ গেট খুলে দেয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই ঘর বাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যাচ্ছে। প্রচন্ড গতিতে পানি বাংলাদেশের দিকে ধেয়ে আসছে। আরও কি পরিমাণ পানি আসবে তা ধারনা যাচ্ছে না। পানির শো শো শব্দে তিস্তা পাড়ে লোকজনের মাঝে আতংক বিরাজ করছে। পানি গতি নিয়ন্ত্রণ করতে তিস্তা ব্যারাজের অধিকাংশ গেটই খুলে দেয়া হয়েছে।

তিস্তার পানিতে জেলার পাটগ্রাম উপজেলার বহুল আলোচিত ছিটমহল আঙ্গোরপোতা- দহগ্রাম, হাতীবান্ধার সানিয়াজান, গড্ডিমারী, সিঙ্গিমারী, সিন্দুনা, পাটিকাপাড়া ও ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়ন, পার্শ্ববতী কালীগঞ্জ, আদিতমারী ও সদর উপজেলার বেশ ইউনিয়নের চর এলাকার ২০ গ্রামের ২২ হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়ে আছে। কয়েক হাজার একর আমন ধানের ক্ষেতসহ অনেক ফসলী ক্ষেত তিস্তার পানিতে ডুবে গেছে। হাতীবান্ধা উপজেলার ধুবনী গ্রামের অস্থায়ী বাঁধ গুলো হুমকির মুখে পড়েছে। এ বাধ গুলোঁ ভেঙ্গে গেলে তিস্তার পানি হাতীবান্ধা শহরে ঢুকে পড়বে।

ইতোমধ্যে চর এলাকা গুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে গেছে। জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার দক্ষিণ ধুবনী গ্রামে একটি অস্থায়ী বাধ ভেঙ্গে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে । এতে ওই এলাকার গুলো অনেক পরিবার নতুন করে পানি বন্দি হয়ে পড়ছে। চর এলাকা গুলো থেকে খবর আসছে বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সংকট দেখা দিয়েছে। এখনও পানি বন্দি পরিবার গুলোর মাঝে কোন খাবার বিতরণ করতে দেখা যায়নি।

হাতীবান্ধা উপজেলার ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান রোজ্জাকুল ইসলাম কায়েদ জানান, তার ইউনিয়নে ২ হাজার পরিবার পানি বন্দি অবস্থায় পড়ে আছে। চর এলাকা গুলো বিশুদ্ধ পানি ও খাবার তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পানি বন্দি পরিবার গুলোর মাঝে কোন ত্রাণ বা খাবার বিতরণ করা হয়নি।

সিন্দুনা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নুরল আমিন জানান, তার ইউনিয়নে প্রায় ৪ হাজার পরিবার পানি বন্দি অবস্থায়। এখন পযর্ন্ত তিনি কোন সরকারি ত্রাণ বরাদ্দ পায়নি। ত্রাণের জন্য জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে তিনি কথা বলেছেন।

তবে হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে পানি বন্দি পরিবার গুলোর খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে।

সুত্র জানায়, তিস্তা পানি আরও বৃদ্ধি পেলে তিস্তা ব্যারাজ রক্ষার্থে পাউবো ‘ফ্লাড বাইপাস’ কেটে দিতে পারে। এ বাধঁ কেটে দিলে গোটা লালমনিরহাট জেলার লক্ষাধিক পরিবার পানি বন্দি হয়ে পড়বে। এতে কোটি কোটি টাকার সম্পদ ক্ষতি হবে।

তিস্তা ব্যরাজ দোয়ানী পানি উন্নয়ন বোর্ড’র নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল আলম চৌধুরী জানান, ভারত গজল ডোবা ব্যারাজের অধিকাংশ গেট খুলে দেয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আরও কি পরিমাণ পানি আসবে তা ধারনা যাচ্ছে না। পানি গতি নিয়ন্ত্রন করতে তিস্তা ব্যারেজের অধিকাংশ গেটই খুলে দেয়া হয়েছে।