রাউজান নিউজ

বাস চাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু; অবসর সময়ের অন্তহীন ভাবনা

আলহাজ্ব মুসলেহ উদ্দিন মুহাম্মদ বদরুল :

‘জন্মিলে মরিতে হইবে অমর কে কোথা রবে।’ সকলকে প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। এটাই চিরন্তন সত্য, স্বাভাবিক। কিন্তু সব মৃত্যুকে মেনে নেয়া যায় না। কিছু কিছু মৃত্যু স্বজনদের শোকের সাগরে ভাসায়। আসলেই অস্বাভাবিক মৃত্যুগুলো মেনে নেয়া সবচেয়ে বেশি কষ্টকর। যে হারায় সেই বুঝে, হারানোর ব্যথা কত দুঃসহ। তবে, শোকার্ত, ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তির দুঃখে দুঃখী হওয়া, সহমর্মিতা, সমবেদনা জানানো একজন মানুষের মানবীয় গুণ। সমাজে এই ধরণের গুণাবলীর লোক আছে বলেই তো এখনো সমাজ ঠিকে আছে। হতাশাগ্রস্থ মানুষ পায় আশার ঠিকানা।

আমাদের দেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মানবীয় গুণ অতুলনীয়। বিপদের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর তিনি একটি জ্বলন্ত উদাহারণ। সেজন্যইতো, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পেয়েছেন ‘মানবতার মা তথা ‌‌‌Mother of humanity ’।

যাক, আজ আমার ভাবনার বিষয় হচ্ছে গত রোববার (২৯ জুলাই) ঢাকায় বাস চাপায় দুই কলেজ শিক্ষার্থীর হৃদয় বিদারক মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে। জানা যায়, শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিমানবন্দর সড়কের ফুটপাতে বাসে উঠার জন্য দাঁড়িয়েছিলেন। সেই সময় দুটি বাস যাত্রী নেয়ার জন্য প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে জবলে নুর পরিবহণের একটি বাস শিক্ষার্থীদের চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই আবদুল করিম ও দিয়া খানম নামে দুই কলেজ শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয় এবং অনেকেই আহত হয়।

সমগ্র দেশে পরিবহণ সেক্টরে নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা আজ নতুন নয়। ওদের কাছে দেশবাসী জিম্মি। কোন অদৃশ্য শক্তির ইশারায় জান মালের ক্ষতি করে পার পেয়ে যাচ্ছে বলেই পরিবহণ মালিক ও শ্রমিকরা আজ বেপরোয়া। কিন্তু আশ্চর্য্য হয়েছি প্রাণহানির ঘটনা শুনে রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও দায়িত্বশীল কর্তা ব্যক্তির নির্বিকার মন্তব্য নিয়ে। ঘটনার ১ঘন্টা পর পরই সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকরা যখন মাননীয় নৌ মন্ত্রীকে বাস চাপায় ২ কলেজ শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যুর কথা জানাচ্ছিলেন তখন সহানুভূতি তো দূরে থাক মন্ত্রী মহোদয়ের মুখে হাসির রেখা ফুটে উঠে। হাসিমাখা মুখে মন্ত্রীর বক্তব্য ভিডিও ফুটেজে না দেখলে হয়তো আমার নিকট বিশ্বাসযোগ্য মনে হত না। ধরে নিতাম, এগুলো মন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিরোধী দলের অপপ্রচার। কিন্তু, যা’ দেখলাম ও শুনলাম তাতে সম্বিৎ হারানোর মত অবস্থা।

দূর্ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি দেয়া হবে মর্মে গতানুগতিক মন্তব্য করে মন্ত্রী বাহাদুর সাংবাদিকদের পাল্টা প্রশ্ন করেন, ভারতের মহারাষ্ট্রে সেদিন বাস চাপায় ৩৩ জন মারা গেল। ওখানে তো এগুলো নিয়ে এত বলাবলি নাই। জানেন, ভারতে দূর্ঘটনায় ঘন্টায় কত জন লোকের মৃত্যু হয় ?
মাননীয় মন্ত্রী, আপনার যুক্তি ঠিক আছে। মন্ত্রীরা অযৌক্তিক কিছু বলতে পারেন না। বিগত আমলে আরও একজন মন্ত্রী সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত শিশু কন্যা সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘আল্লাহর মাল আল্লাহ নিয়ে গেছে।’ যিনি এই মন্তব্য করেছিলেন তিনি ছিলেন তখন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। রাষ্ট্রের নাগরিকদের জান মালের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত একজন অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি।

এদেশের একজন সাধারণ নাগরিক হিসাবে গুণধর মন্ত্রী বাহাদুরদের নিকট আমার জিজ্ঞাসা, স্বাভাবিক মৃত্যুর বদলে যাদের অপমৃত্যু ঘটছে তারা যদি আপনাদের কারও সন্তান হতো তাহলে হাসি মুখে ধীর স্থিরচিত্তে এভাবে কথা বলতে পারতেন? আজ আবদুল করিম ও দিয়া খানমের পরিবারে শোকের মাতম চলছে। মা-বাবা জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে। স্বজন, কলেজের শিক্ষক ও সহপাটিরা শোকে স্তব্ধ। এই মুহুর্তে অতি বচন ও অতি কথনের বদলে শোকার্ত পরিবার গুলোর পাশে দাঁড়ানো অতীব জরুরী।
ছবি: এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি’র সংবর্ধনা উপলক্ষে রাউজানে লিফলেট বিতরণ করছেন পৌরসভা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ।

লেখক: সভাপতি, মাহাম্মদপুর মুহিউল উলুম দাখিল মাদরাসার পরিচালনা কমিটি।

রাউজান নিউজ/এইচ.আর/হাবিব