রাউজান নিউজ

হালদা নদীতে মরছে মাছ, মরছে পরিবেশ

অামির হামজা (রাউজান নিউজ)ঃ

উপমহাদেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্যপ্রজনন ক্ষেত্র হিসবে পরিচিত চট্টগ্রামের হালদা নদীর পানি অতি বন্যার কবলে পড়ে দূষিত হয়ে যায়। তাছাড়া বন্যায় আশপাশের শাখা খাল, ডোবা, পুকুর এবং ফসলী জমির পানিও একাকার হয়ে যায়। আশপাশের সব ময়লা আবর্জনা পচে তা পড়ে এ নদীতে। এসব কারণে হালদা নদীতে গত মঙ্গলবার ধরে বিভিন্ন মাছ মরে ভেসে ওঠছে। বিশেষ করে নদীতে ময়লা পানির কারণে
বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে যাওয়ায় কারণে চিংড়ি মাছ এর সংখ্যা বেশি মারা যাচ্ছে।

জানা যায়, টানা বর্ষণে বন্যার সময় খাল, বিল, ডোবা ও পুকুরের পানি একাকার হয়ে যায়। পরে দূষিত হয়ে এসব পানি আবার গিয়ে পড়ে হালদা নদীতে। অাজ (২১-জুন) হালদার এলাকার স্থানীয় লোকজন অনেকে মরে ভেসে ওঠা মাছ ধরেছে বলে জানা যায়। এবং অনেকে ফেসবুকে হালদার মাছ মারা মাছ ও হালদার পানি দূষিত পরিবেশ নিয়ে নিজ নিজ ফেসবুকে জুড়ে নানা মন্তব্য করছেন। যা হালদার এমন পরিবেশ নিয়ে। অনেকে বলছে অামাদের প্রতিদিন হালদার পানি ব্যবহার করতে হয়, কিন্তু গত কয়েক-দিনে হালদার পানি ব্যবহার করে অামাদের শরীরের বিভিন্নস্থানে চুলকানিসহ  ফোসকা দেখাদিয়েছে। এতে বুঝা-যায় অামাদের হালদার পরিবেশ নষ্ট হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন খাল ও পুকুর ডুবে যাওয়ার পর স্থানীয়রা সেখানে ক্যামিকেল ফেলে। এ কারণে চিংড়িসহ বিভিন্ন মাছ পানির মরে ভেসে উঠে যায়। পরে সেগুলো স্থানীয়রা ধরে ফেলে বলে জানা যায়। স্থানীয়া মরা মাছ ধরে স্থানিয় বিভিন্ন হাটবাজারে বিক্রি করছে এসব মরা মাছ।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও হালদা গবেষক ড. মনজুরুল কিবরিয়া রাউজান নিউজকে বলেন, গত রমজানের বন্যার সময় পানি বিভিন্ন স্থান থেকে আবর্জনাসহ হালদা নদীতে পড়ে। প্রতিনিয়ত নদীতে বিভিন্ন শিল্প কারখানার রাসায়নিক বর্জ্য পড়ছে হালদায় নদীতে। বর্জ্যে পানি দূষিত হওয়ায় এতে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যায়। এ কারণে মাছ বেশি মারা যাচ্ছে। বিশেষ করে চিংড়ি মাছ প্রয়োজনীয় মাত্রার অক্সিজেন ছাড়া থাকতেই পারে না। তাই এই মাছই বেশি মারা যাচ্ছে। পাশাপাশি দেখাযাচ্ছে বড় বড় রুই, কাতাল মাছ মরে ভেসে উঠে।

হালদার এমন পরিবেশ ও মাছ মরার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে অাজ বৃহস্পতিবার হালদা নদী থেকে পানি সংগ্রহ করে পরিক্ষা করা হবে বলে জানায়ায়। কেন এতো গুলা মাছ মরছে পরিক্ষা পর বিস্তারিত জানা যাবে।