রাউজান নিউজ

রাউজানে পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নের মেলবন্ধনে বদলে গেছে পাহাড়তলীর দৃশ্যপট

অামির হামজা (রাউজান নিউজ)ঃ

বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্নের সোনার বাংলা ও ডিজিটাল বাংলাদেশ বির্নিমাণের স্বপ্ন বাস্তবায়নে দেশ জুড়ে চলমাণ উন্নয়ন ও অগ্রগতির মহা কর্মযজ্ঞের অংশ হিসেবে রাউজান উপজেলার ৯নং পাহাড়তলী ইউনিয়নে প্রতিটি ওয়ার্ডে উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়িত হয়েছে। পাহাড়তলী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান অালহাজ্ব ইব্রাহিম চেয়ারম্যানের মৃত্যর পরে তার সন্তান রোকন উদ্দিন দায়ত্ব নেন, এর অাগে অালহাজ্ব ইব্রাহিম চেয়ারম্যান এলাকার অনেক উন্নয়ন করেছিলেন তিনি, তিনি ছিলেন একজন সাদা মনের মানুষ, সমাজের মানুষের সুংখে-দুংখে তার ভুমিকা ছিল অসীম। তার মৃত্যর পরে তার ছেলে রোকন উদ্দিন এর নেত্বীতে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়িত হয়েছে এবং অারো অনেক কাজ চলমাণ রয়েছে।

এলাকার প্রতিটি গ্রামের পাড়ায় রাস্তাঘাট করছেন সিসিঢালা প্রশস্ত রাস্তা। রাতে সোলারে বাতির আলোয় পরিচ্ছন্ন রাস্তা দেখে মনে হয় স্বপ্ননের অামিরিকায়  দৃশ্যপট ভেসে ওঠা অসম্ভব কিছু নয়। উন্নয়ণের ছোঁযায় এলাকায় এখন অবয়বে শহুরে জনপদে রুপ নিয়েছে। ফলে চোখে পড়ার মতো সরকারের এ উন্নয়ণের জয়গাণ এখন পাহাড়তলী এলাকাবাসীর মুখে মুখে।

উন্নয়নের বিষয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান মোঃ রোকন উদ্দিন বলেন, রাউজানের সংসদসদস্য এবি.এম ফজলে করিম চৌধুরী উন্নয়নের মহা পরিকল্পনা তৈরী করে তার নির্বাচনী এলাকা রাউজান উপজেলায় প্রায় হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কর্মকান্ড করেন তিনি। অবহেলিত এ রাউজানের প্রতিটি এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ড করার মধ্য দিয়ে রাউজানকে সৌন্দর্য্য বর্ধণ করা হয়েছে। বর্তমান সরকারের আন্তরিকতার কারণে রাউজানে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগব্যবস্থাসহ কৃষিকাজে ব্যাপক উন্নতি সাধিত হচ্ছে। এতে অারো এখন নানা উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়ন হচ্ছে, এর সুফল ভোগ করছে এলাকায় নানা পেশার জনসাধারণ। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও সংস্কার, রাস্তা-ঘাট নির্মাণ এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নসহ জীবন যাত্রার মান উন্নয়নে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে তিনি।

তিনি অারো বলেন, বর্তমানে পাহাড়তলী এলাকায় হচ্ছে  পিংক সিটি-২, একটি খাদ্য গুদাম, একটি নতুন থানা, ঊনসত্তর পাড়া অাবাসিক এলাকা। মোট জন-সংখ্যা পুরুষ ৭২৩১২ মহিলা ৩৪১৪৪ জন, ৯নং পাহাড়তলী মোট অায়তন ৩৮১৬ বর্গ কিলো-মিটার, শিক্ষার হার ৮৬%, ইউনিয়ন পরিষোদ ১টি, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মোট ১৩টি, বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মোট ৩টি, মাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয় মোট ৬টি, মহা-বিদ্যালয় মোট ৩টি, বিশ্ববিদ্যালয় মোট ২টি, মসজিদ ৩৭টি, মন্দির ২৩টি, বিহার ১৪টি, স্বাস্থ্য-কমপ্লেক্স মোট ১টি, বর্তমানে পুলিশ সুপার কার্যালয় মোট ১টি, পুলিশ ফাঁড়ি মোট ১টি, ভুমি অফিস ১টি, কমিউনটি ক্লিনিক মোট ৩টি, মোট ডাকঘর ৪টি, মাদ্রাসা ৭টি, ৪২০ মে: ওয়ার্ড বিদ্যুৎ কেন্দ্র মোট ১টি, মোট খালের পরিমাণ ৭টি, ছড়া খাল ১৩টি, অাশ্রয় প্রকল্প ১টি, অনাথ অাশ্রয়ন কেন্দ্র মোট ২টি, মোট ব্যাংক ১০টি সরকারি ৩টি বেসরকারি ৭টি, এন,জি,ও ব্যাংক মোট ৮টি, মোট বাজার ২টি।

সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখাযায়, ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামে কাঁচা রাস্তা-ঘাটের উন্নয়নে ব্যাপক পরিবর্তন দেখা গেছে। গ্রামে যাতায়াতের জন্য নতুন রাস্তা করা হয়েছে,  কিন্তু সাধারণ মানুষের যাতায়াতের জন্য যে পাঁকা ও পিচঢালা রাস্তা তৈরী করা হয়েছে তা চেয়ারম্যান রোকন উদ্দিন এলাকায় প্রশংসনীয় ভুমিকা পালন করছেন, স্থানীয়রা বলেন, আমাদের গ্রামে গত দুই-তিন বছরে নতুন রাস্তা নির্মাণ করায় গ্রামবাসীর দীর্ঘ দিনের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে চেয়ারম্যান রোকন উদ্দিন।

চেয়ারম্যান রোকন উদ্দিন বলেন, স্থানীয় সাংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর কঠোর নজরদারি করায় পাহাড়তলী এলাকার গ্রামীণ অবকাঠামোর ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। কাজে কোন অনিয়মের সুযোগ দেয়া হয়নি। তার কারণে এলাকায় উন্নয়ন হয়েছে।

পাহাড়তলী গ্রামটি রয়েছে ঘুরে দেখার অনেক জায়গা। চুয়েট, ইমাম গাজ্জালী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, মহামুনি, তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র, জগৎপুর আশ্রম, পিংক সিটি-২, খৈয়াখালী বৌদ্ধ মন্দির, চট্টগ্রামের অন্যতম বাজার হিসবে পরিচিত গৌরিশঙ্কর হাট, ১৯৭১ সালের পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী নীরিহ- নিরস্ত্র বাঙ্গালীদের উপর ভয়াবহ গণহত্যা সেই ইতিহাসের ঊনসত্তর পাড়া গ্রামটি। মনে হয় প্রকৃতি তার সৌন্দর্যের সবটাই উজার করে দিয়েছে এই পাহাড়তলীতে। অবহেলিত এ ইউনিয়নটি ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ড করার মধ্য দিয়ে সৌন্দর্য্য বর্ধণ করা হয়েছে। পাহাড়, সবুজ আর রাস্তার দুই পাশে গাছের এক অদ্ভুত মিলনমেলা এই এলাকাটি। ফলে উন্নয়ন কর্মকান্ডের সুনাম এখন মানুষের মুখে মুখে আলোচিত হচ্ছে।

বর্তমানে পাহাড়তলী বিভিন্ন স্থানে সিসি ক্যামরা মাধ্যমেই সড়কে নিরাপত্তা জোরধার করা হয়েছে চেয়ারম্যান।