রাউজান নিউজ

বৌদ্ধ পারিবারিক আইন প্রত্যাহারের দাবীতে চট্টগ্রামে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রামে বিতর্কিত বৌদ্ধ পারিবারিক আইন বাতিলেরদাবিতে সম্মিলিত বৌদ্ধ সমাজের নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে এক প্রতিবাদ সভাঅনুষ্ঠিত হয়েছে

২৬ জুন (মঙ্গলবারচট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির মিলনাতয়নে অনলাইনএক্টিভিস্টদের সম্মিলিত উদ্যোগে সংগঠিত হয়ে “বাংলাদেশে সম্মিলিত বৌদ্ধসমাজ” এর ব্যানারে “বৌদ্ধ পারিবারিক আইন২০১৮ প্রণীত খসড়া আইনেরবিরুদ্ধে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয় এডভোকেট সুজন কুমার বড়ুয়া পুলক বড়ুয়ার আয়োজনে জিনবোধি মহাথের ভিক্ষুর মঙ্গলাচরণে ও ইঞ্জিনিয়র সবুজ বড়ুয়ার সঞ্চালনায় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন বৌদ্ধ ধর্মের গবেষক, সর্বজন শ্রদ্ধেয়পন্ডিতব্যক্তিত্ব  বৌদ্ধদের আলোর দিশারী, ধর্ম দেশকচট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পালিবিভাগের চেয়ারম্যান জিনবোধি মহাথেরসিনিয়র আইনজীবি  চট্টগ্রামেরবৌদ্ধ আইনজীবি সমিতির পক্ষে বিশিষ্ট বৌদ্ধ নেতা এডভোকেট সুনিল বড়ুয়া,বাংলাদেশ কৃষ্টি প্রচার সংঘের সাবেক ভাইস প্রেডিডেন্ট ইঞ্জিনিয়র সুনিল বড়ুয়া,শিক্ষাবিদ অধ্যাপক প্রভাষ কুসুম বড়ুয়াঢাকা থেকে আগত বাংলা সময়েরসম্পাদক প্রকাশক  বাংলাদেশ অনলাইন নিউজপোর্টাল এ্যসোসিয়েশন এরকেন্দ্রীয় কমিটির অর্থ সম্পাদক প্রদীপ বড়ুয়ামহানগর হিন্দু বৌদ্ধ কল্যাণপরিষদের বিভুতি রঞ্জন বড়ুয়াএসপ্রিয় পাল ভিক্ষু সভায় আরও বক্তব্যরাখেনইঞ্জিনিয়র সবুজ বড়ুয়াএডভোকেট রিগ্যান বড়ুয়ারিয়েল বড়ুয়াকুমারঅভি বড়ুয়াবাহির সিগন্যাল শাক্যমুনি বিহারের সাধারণ সম্পাদক সৈকতবড়ুয়া,  নিক্সন বড়ুয়া (সিডিএ),  বা::আন্দোলনের বোধিপাল বড়ুয়া,উদীয়মান শিক্ষাবিদ জুয়েল বড়ুয়া,  মানবাধিকারকর্মী সুসেন বড়ুয়া সম্ভু,প্রকৌশলী বিজয় তালুকদারমানবাধিকার কর্মী ইন্দ্রসেন বড়ুয়াসুনয়ন বড়ুয়াবিএইচএ, বিশ্বজিৎ বড়ুয়া রকি সহ আরও অনেকে

.জিনবোধি মহাথের বলেন, বর্তমান সমাজে এই আইনের প্রভাব কি হবে, বৌদ্ধদের এই আইনে কেউ ক্ষতিগ্রস্থ হয় কিনা, সব কিছু বিবেচনা করেই আইনটি করা প্রয়োজন। তাই এই আইন প্রত্যাহার করে নতুন করে উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। তথাপি এই আইনে ভিক্ষুদেরকে একেবারেই উপেক্ষা করা হবে, সঙ্ঘ সম্পত্তির বিষয়ে আলোকপাত করা হয়নি।তিনি বৌদ্ধদের ঐতিহাসিকস্থানগুলোর সম্পত্তিতে সরকারের প্রজেক্ট করার জন্য বরাদ্দ দেয়ার ঘোরপ্রতিবাদ জানান

এডভোকেট সুজন কুমার বড়ুয়া বলেনযারা আইনটি করেছে তাদেরকে কারাবলেছে এই আইনটি করতেতারা কি বৌদ্ধদের নেতাতাদের কি বৌদ্ধরাবলেছিল এই আইন করতেকারা ম্যান্ডেট দিয়েছে এই আইন করার তারা কিবৌদ্ধ সমাজের নেতাসমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন একক পরিবারে কিংবা শহরেরদালান কোটায় বসবাস করেসামাজিক অবস্থা বিবেচনা না করেগ্রাম্য  দরিদ্রপরিবারের কথা বিবেচনা না করেএই ক্ষুদ্র বড়ুয়া জনগোষ্ঠী ভবিষ্যতের কথাচিন্তা না করে,  স্বেচ্ছাকৃত  মনগড়া একটি আইন করবেন বড়ুয়ারা সেই আইনমেনে নিবেসেটা যদি ভেবে থাকেন তাহলে সেই কথিত নেতারা মূর্খের স্বর্গে বাসকরছেন

ত্রিরত্নের সভাপতি অভি বড়ুয়া বলেন, যেহেতুমিয়ানমারে রোহিঙ্গা নির্যাতনতারপর রামুতে উত্তম বড়ুয়া নামক ছেলের ফেইসবুকে ধর্মীয় অবমাননার বরাতদিয়ে কক্সবাজারের সর্বত্র একযোগে বৌদ্ধ মন্দিরে হামলা  বড়ুয়াদেরমিয়ানমারে পাঠিয়ে দেয়ার হুমকি– এরপর রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আসা –বড়ুয়াদের ভয় দেখিয়ে সমস্ত মামলা তুলে নেয়া, এসব ঘটনার পর্যায়ক্রমে সাজালে এবং এখন এই আইন করে বড়ুয়াদের উপর জোর করে চাপিয়েদেয়া এগুলোর মধ্যে যোগসাজোশ আছে কিনা ভাল করে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। এই হামলার প্রতিবাদ করতে গিয়ে আমি নিজেও হুমকির মধ্যে পড়েছিলাম।

প্রদীপ বড়ুয়া বলেন যেহেতু ধর্মীয় গ্রন্থধর্মীয় বিধিবিধানধর্মীয় রীতিনীতি,প্রচলিত রীতিনীতিপ্রথাগত রীতিনীতি কে সনির্বদ্ধ করেদেশের বৌদ্ধদের স্বার্থরক্ষা করেঅধিকাংশ বৌদ্ধ জনগণের সর্বোচ্চ সুবিধা ভোগের নিমিত্তে,সামাজিক  নৈতিক অবক্ষয় না হওয়ার নিমিত্তেভবিষ্যতে সমাজে সবারক্ষতির প্রভাব বিবেচনা করেপ্রান্তিক জনগণের শান্তি বয়ে আনতে যে সমস্তরীতিনীতি লিখিত ভাবে সংবিধানে আনা হবে সেটাই আইন অথচ এই আইনেতেমন কোন কিছুই পরিলক্ষিত হয়নি সবচেয়ে বড় কথা হলদেশের বৌদ্ধদেরসিংহ ভাগ বৌদ্ধ হলপার্বত্য অঞ্চলের উপজাতি জনগোষ্ঠীরাতাদেরকে বাদদিয়ে শুধুমাত্র গুটিকতেক বড়ুয়াকে টার্গেট করে বৌদ্ধ আইন করাটা একটিপ্রহসনমূলক  দুরভিসন্ধিমূলক

অভি বড়ুয়ার সাথে একমত পোষণ করে তিনি বলেন, কোন সন্দেহকেই এখন ছোট করে দেখার মত নেই, রামুর ঘটনা সবাই ভুলে গেলেও সেই ক্ষতস্থান শঙ্কা এখনও কাটেনি বড়ুয়া বৌদ্ধদের। হঠাৎ করে এই ধরনের উদ্ভট আইন করে জনগণকে বিভ্রান্তিতে ফেলানো কি কোন ষড়যন্ত্র নাকি সরষে ভূত সেটা এখনও দেখার বিষয় আছে। বড়ুয়াদেরকে সাবধান করে দিয়ে তিনি বলেন, বড়ুয়াদের এখন অস্থিত্বের জন্য লড়াইয়ে নামতে হবে। আমরা যাতাকলে পিষ্ট হয়ে যাব। সময় থাকতে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন। ছেলেদের শ্বশুর বাড়ির সম্পত্তির লোভদেখিয়েমেয়েদের বাবার বাড়ির সম্পত্তির লোভ দেখিয়েপিতাকে তার শ্বশুরবাড়ির লোভ দেখিয়েপিসিকে আমার পিতার সম্পত্তির লোভ দেখিয়ে, পুরোবড়ুয়া সমাজে যেভাবে আগুন জ্বালিয়ে দেয়ার বৃথা চেষ্টা করছেন। এই এইনের ফলাফল জিরো, তারমানে যেই লাও সেই কদু। হয়তো কিছু লোক এই আইনের ফলে কিছু সম্পত্তি পাবে তার চেয়ে হাজারগুন বেশি ক্ষতি হবে এই আইনে, পুরো বড়ুয়াই বিলুপ্ত হয়ে যাবে। আপনারা যেই ফাঁদ পাতছেনসেই ফাঁদে বড়ুয়ারা পাদিবেনা বেশিরভাগ বড়ুয়ারা অশিক্ষিত হলেও বুদ্ধের অনুসারী তারা  জ্ঞানী এটা বুঝার ক্ষমতা অধিকার রাখে

বাহির সিগনাল বৌদ্ধ বিহারের সাধারন সম্পাদক বাবু সৈকত বড়ুয়া বলেন, এই আইন যদি সমাজে প্রয়োগ করে সেটি হবে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত, বড়ুয়াদের নির্মূল করে দেবে সেটা একটা ছোট ছেলেরাও জানে। তাই অনতিবিলম্ব এই আইন প্রত্যাহার করা হউক।

চট্টগ্রাম মহানগর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারন সম্পাদক বাবু বিভূতি রঞ্জন বড়ুয়া বলেন,  উক্ত আইন কোন বৌদ্ধ আইনের আওতায় পড়েনাএবং এই আইন সমাজের বড়ুয়া  রাখাইনদের সংস্কৃতিঐতিহ্য পুরোটাই ধ্বংসকরবে। ঘরে ঘরে হামলা মামলা ও অশান্তি সৃষ্টি হবে তাই এই আইন বাতিল করা হউক

এডভোকেট রিগ্যান বড়ুয়া বলেন, কিছু আইনজীবি বড়ুয়া মক্কেলের অভাবে আছেন, তাই ঘরে ঘরে মামলা বাঁধিয়ে দিয়ে টাকা আয়ের ফন্দি আটছেন। কারণ যত ঝামেলা তত টাকা। বড়ূয়াদের রক্ষা করতে হলে এই আইনটি প্রত্যাহারের কোন বিকল্প নাই।

মানবাধিকারকর্মী সুর্যসে বড়ুয়া ঙ্কু, সরকারী সুবিধাভোগী ও কথিত বৌদ্ধ নেতাদের দ্বারা প্রণীত আইনের খসড়াটি ধর্ম মন্ত্রনালয়ে পাঠানোর ১০দিনের মধ্যে ওয়েভ সাইটে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ইমেইলে মতামত চাওয়াটা হাস্যকর, কারণ দেশের কয়জন বৌদ্ধ ইমেইল ব্যবহার করে সচেতন ব্যক্তিদের মনে হয় জানা নাই, কাল ক্ষেপন না করে আইনটি প্রত্যাহার করা হউক।

প্রজ্ঞাপাল ভিক্ষু বলেন, এই আইনটি প্রত্যাহার করে পুনরায় আইন করা হলেআমরা সহযোগীতা করব অবশ্য সেই আইনের উৎস হতে হবে ত্রিপিটক প্রচলিত বৌদ্ধ রীতিনীতি অনুযায়ী

নিক্সন বড়ুয়া সিডিএ বলেন, এই আইন অবিলম্বে প্রত্যাহার করে পরে সকলবৌদ্ধদের একত্রিত করেসবার সম্মতি নিয়েসকল শ্রেনীর পেশাজীবিদেরসমন্বয়ে আইন হবে যদি এই আইন প্রত্যাহার করা না হয়তাহলে সারাদেশেরবড়ুয়া বৌদ্ধ জনগোষ্ঠী একসাথে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব

উদীয়মান শিক্ষাবিদ জুয়েল বড়ুয়া বলেন, ধর্মীয় গ্রন্থ ও প্রতিরূপ দেশের পারিবারিক আইনের সমন্বয়ে বৌদ্ধ আইন করা বাঞ্চনীয়। উক্ত আইন বাতিল করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা চাইলে এখনও নতুন করে উদ্যোগ নিতে পারে।

রিয়েল বড়ুয়াবা::আন্দোলনের বোধিপাল বড়ুয়া,  , প্রকৌশলী বিজয়তালুকদারমানবাধিকার কর্মী ইন্দ্রসেন বড়ুয়াসুনয়ন বড়ুয়া বিএইচএ সহআরও অনেকেই বক্তব্যে সবাই উক্ত আইনের বিরোধিতা করে  সমালোচনাকরে বলেনএই আইন বড়ুয়াদের নিশ্চিহ্ন করবেবড়ুয়াদের নিজ পরিবারেরমধ্যে সংঘাত তৈরি করেসমাজে ফায়দা লুঠতেই এই আইন করা হচ্ছে এমনকিবৌদ্ধদের ধর্মীয় গুরু ভিক্ষু সমাজের মতামত নেয়ার প্রয়োজন মনে করেননিঅন্যদিকে উক্ত আইনের উৎস কি সেটা কোথাও উল্লেখ নাই

সভায় বক্তারা সবাই এই আইনটি প্রত্যাহার করার আহ্বান জানান যদি আইনকরতে সরকার বাধ্যই করে থাকেন তাহলে দেশের সবস্থানের বৌদ্ধ সমাজেরগণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের বৌদ্ধ ভিক্ষুআইনজীবিসাংবাদিকরাজনীতিবিদ,সমাজকর্মীসংগঠনিক নেতৃবৃন্দদেরকে একসাথে নিয়ে আইন করলে সেটা টেকসই হবে। নচেৎ বড়ুয়া সমাজ ধ্বংস হয়ে যাবে অচিরেই। এই আইন প্রত্যাহার না করলে বৌদ্ধ সমাজ একযোগে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে

সভায় সম্মিলিত বৌদ্ধ সমাজের ব্যানারে দেশের সর্বত্র বৌদ্ধ সমাজে মানববন্ধন,গণস্বাক্ষর কর্মসূচী  প্রতিবাদ সহ প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলীপি স্থানীয়টিএনও কিংবা জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দেয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়সেই সাথে ঢাকা  চট্টগ্রামে প্রেস ক্লাবের সামনেও মানববন্ধন সহ সংবাদসম্মেলন করার প্রস্তাব করা হয় উপস্থিত সবাই একমত হয়ে উক্ত কর্মসূচী গুলোকরার ব্যবস্থা করবে বলে আশ্বাস দেন

 ট্টগ্রামে বিতর্কিত ”বৌদ্ধ পারিবারিক আইন বাতিলেরদাবিতে সম্মিলিত বৌদ্ধ সমাজের নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে এক প্রতিবাদ সভাঅনুষ্ঠিত হয়েছে

২৬ জুন (মঙ্গলবারচট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির মিলনাতয়নে অনলাইনএক্টিভিস্টদের সম্মিলিত উদ্যোগে সংগঠিত হয়ে “বাংলাদেশে সম্মিলিত বৌদ্ধসমাজ” এর ব্যানারে “বৌদ্ধ পারিবারিক আইন২০১৮ প্রণীত খসড়া আইনেরবিরুদ্ধে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয় এডভোকেট সুজন কুমার বড়ুয়া পুলক বড়ুয়ার আয়োজনে জিনবোধি মহাথের ভিক্ষুর মঙ্গলাচরণে ও ইঞ্জিনিয়র সবুজ বড়ুয়ার সঞ্চালনায় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন বৌদ্ধ ধর্মের গবেষক, সর্বজন শ্রদ্ধেয়পন্ডিতব্যক্তিত্ব  বৌদ্ধদের আলোর দিশারী, ধর্ম দেশকচট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পালিবিভাগের চেয়ারম্যান জিনবোধি মহাথেরসিনিয়র আইনজীবি  চট্টগ্রামেরবৌদ্ধ আইনজীবি সমিতির পক্ষে বিশিষ্ট বৌদ্ধ নেতা এডভোকেট সুনিল বড়ুয়া,বাংলাদেশ কৃষ্টি প্রচার সংঘের সাবেক ভাইস প্রেডিডেন্ট ইঞ্জিনিয়র সুনিল বড়ুয়া,শিক্ষাবিদ অধ্যাপক প্রভাষ কুসুম বড়ুয়াঢাকা থেকে আগত বাংলা সময়েরসম্পাদক প্রকাশক  বাংলাদেশ অনলাইন নিউজপোর্টাল এ্যসোসিয়েশন এরকেন্দ্রীয় কমিটির অর্থ সম্পাদক প্রদীপ বড়ুয়ামহানগর হিন্দু বৌদ্ধ কল্যাণপরিষদের বিভুতি রঞ্জন বড়ুয়াএসপ্রিয় পাল ভিক্ষু সভায় আরও বক্তব্যরাখেনইঞ্জিনিয়র সবুজ বড়ুয়াএডভোকেট রিগ্যান বড়ুয়ারিয়েল বড়ুয়াকুমারঅভি বড়ুয়াবাহির সিগন্যাল শাক্যমুনি বিহারের সাধারণ সম্পাদক সৈকতবড়ুয়া,  নিক্সন বড়ুয়া (সিডিএ),  বা::আন্দোলনের বোধিপাল বড়ুয়া,উদীয়মান শিক্ষাবিদ জুয়েল বড়ুয়া,  মানবাধিকারকর্মী সুসেন বড়ুয়া সম্ভু,প্রকৌশলী বিজয় তালুকদারমানবাধিকার কর্মী ইন্দ্রসেন বড়ুয়াসুনয়ন বড়ুয়াবিএইচএ, বিশ্বজিৎ বড়ুয়া রকি সহ আরও অনেকে

.জিনবোধি মহাথের বলেন, বর্তমান সমাজে এই আইনের প্রভাব কি হবে, বৌদ্ধদের এই আইনে কেউ ক্ষতিগ্রস্থ হয় কিনা, সব কিছু বিবেচনা করেই আইনটি করা প্রয়োজন। তাই এই আইন প্রত্যাহার করে নতুন করে উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। তথাপি এই আইনে ভিক্ষুদেরকে একেবারেই উপেক্ষা করা হবে, সঙ্ঘ সম্পত্তির বিষয়ে আলোকপাত করা হয়নি।তিনি বৌদ্ধদের ঐতিহাসিকস্থানগুলোর সম্পত্তিতে সরকারের প্রজেক্ট করার জন্য বরাদ্দ দেয়ার ঘোরপ্রতিবাদ জানান

এডভোকেট সুজন কুমার বড়ুয়া বলেনযারা আইনটি করেছে তাদেরকে কারাবলেছে এই আইনটি করতেতারা কি বৌদ্ধদের নেতাতাদের কি বৌদ্ধরাবলেছিল এই আইন করতেকারা ম্যান্ডেট দিয়েছে এই আইন করার তারা কিবৌদ্ধ সমাজের নেতাসমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন একক পরিবারে কিংবা শহরেরদালান কোটায় বসবাস করেসামাজিক অবস্থা বিবেচনা না করেগ্রাম্য  দরিদ্রপরিবারের কথা বিবেচনা না করেএই ক্ষুদ্র বড়ুয়া জনগোষ্ঠী ভবিষ্যতের কথাচিন্তা না করে,  স্বেচ্ছাকৃত  মনগড়া একটি আইন করবেন বড়ুয়ারা সেই আইনমেনে নিবেসেটা যদি ভেবে থাকেন তাহলে সেই কথিত নেতারা মূর্খের স্বর্গে বাসকরছেন

ত্রিরত্নের সভাপতি অভি বড়ুয়া বলেন, যেহেতুমিয়ানমারে রোহিঙ্গা নির্যাতনতারপর রামুতে উত্তম বড়ুয়া নামক ছেলের ফেইসবুকে ধর্মীয় অবমাননার বরাতদিয়ে কক্সবাজারের সর্বত্র একযোগে বৌদ্ধ মন্দিরে হামলা  বড়ুয়াদেরমিয়ানমারে পাঠিয়ে দেয়ার হুমকি– এরপর রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আসা –বড়ুয়াদের ভয় দেখিয়ে সমস্ত মামলা তুলে নেয়া, এসব ঘটনার পর্যায়ক্রমে সাজালে এবং এখন এই আইন করে বড়ুয়াদের উপর জোর করে চাপিয়েদেয়া এগুলোর মধ্যে যোগসাজোশ আছে কিনা ভাল করে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। এই হামলার প্রতিবাদ করতে গিয়ে আমি নিজেও হুমকির মধ্যে পড়েছিলাম।

প্রদীপ বড়ুয়া বলেন যেহেতু ধর্মীয় গ্রন্থধর্মীয় বিধিবিধানধর্মীয় রীতিনীতি,প্রচলিত রীতিনীতিপ্রথাগত রীতিনীতি কে সনির্বদ্ধ করেদেশের বৌদ্ধদের স্বার্থরক্ষা করেঅধিকাংশ বৌদ্ধ জনগণের সর্বোচ্চ সুবিধা ভোগের নিমিত্তে,সামাজিক  নৈতিক অবক্ষয় না হওয়ার নিমিত্তেভবিষ্যতে সমাজে সবারক্ষতির প্রভাব বিবেচনা করেপ্রান্তিক জনগণের শান্তি বয়ে আনতে যে সমস্তরীতিনীতি লিখিত ভাবে সংবিধানে আনা হবে সেটাই আইন অথচ এই আইনেতেমন কোন কিছুই পরিলক্ষিত হয়নি সবচেয়ে বড় কথা হলদেশের বৌদ্ধদেরসিংহ ভাগ বৌদ্ধ হলপার্বত্য অঞ্চলের উপজাতি জনগোষ্ঠীরাতাদেরকে বাদদিয়ে শুধুমাত্র গুটিকতেক বড়ুয়াকে টার্গেট করে বৌদ্ধ আইন করাটা একটিপ্রহসনমূলক  দুরভিসন্ধিমূলক

অভি বড়ুয়ার সাথে একমত পোষণ করে তিনি বলেন, কোন সন্দেহকেই এখন ছোট করে দেখার মত নেই, রামুর ঘটনা সবাই ভুলে গেলেও সেই ক্ষতস্থান শঙ্কা এখনও কাটেনি বড়ুয়া বৌদ্ধদের। হঠাৎ করে এই ধরনের উদ্ভট আইন করে জনগণকে বিভ্রান্তিতে ফেলানো কি কোন ষড়যন্ত্র নাকি সরষে ভূত সেটা এখনও দেখার বিষয় আছে। বড়ুয়াদেরকে সাবধান করে দিয়ে তিনি বলেন, বড়ুয়াদের এখন অস্থিত্বের জন্য লড়াইয়ে নামতে হবে। আমরা যাতাকলে পিষ্ট হয়ে যাব। সময় থাকতে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন। ছেলেদের শ্বশুর বাড়ির সম্পত্তির লোভদেখিয়েমেয়েদের বাবার বাড়ির সম্পত্তির লোভ দেখিয়েপিতাকে তার শ্বশুরবাড়ির লোভ দেখিয়েপিসিকে আমার পিতার সম্পত্তির লোভ দেখিয়ে, পুরোবড়ুয়া সমাজে যেভাবে আগুন জ্বালিয়ে দেয়ার বৃথা চেষ্টা করছেন। এই এইনের ফলাফল জিরো, তারমানে যেই লাও সেই কদু। হয়তো কিছু লোক এই আইনের ফলে কিছু সম্পত্তি পাবে তার চেয়ে হাজারগুন বেশি ক্ষতি হবে এই আইনে, পুরো বড়ুয়াই বিলুপ্ত হয়ে যাবে। আপনারা যেই ফাঁদ পাতছেনসেই ফাঁদে বড়ুয়ারা পাদিবেনা বেশিরভাগ বড়ুয়ারা অশিক্ষিত হলেও বুদ্ধের অনুসারী তারা  জ্ঞানী এটা বুঝার ক্ষমতা অধিকার রাখে

বাহির সিগনাল বৌদ্ধ বিহারের সাধারন সম্পাদক বাবু সৈকত বড়ুয়া বলেন, এই আইন যদি সমাজে প্রয়োগ করে সেটি হবে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত, বড়ুয়াদের নির্মূল করে দেবে সেটা একটা ছোট ছেলেরাও জানে। তাই অনতিবিলম্ব এই আইন প্রত্যাহার করা হউক।

চট্টগ্রাম মহানগর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারন সম্পাদক বাবু বিভূতি রঞ্জন বড়ুয়া বলেন,  উক্ত আইন কোন বৌদ্ধ আইনের আওতায় পড়েনাএবং এই আইন সমাজের বড়ুয়া  রাখাইনদের সংস্কৃতিঐতিহ্য পুরোটাই ধ্বংসকরবে। ঘরে ঘরে হামলা মামলা ও অশান্তি সৃষ্টি হবে তাই এই আইন বাতিল করা হউক

এডভোকেট রিগ্যান বড়ুয়া বলেন, কিছু আইনজীবি বড়ুয়া মক্কেলের অভাবে আছেন, তাই ঘরে ঘরে মামলা বাঁধিয়ে দিয়ে টাকা আয়ের ফন্দি আটছেন। কারণ যত ঝামেলা তত টাকা। বড়ূয়াদের রক্ষা করতে হলে এই আইনটি প্রত্যাহারের কোন বিকল্প নাই।

মানবাধিকারকর্মী সুর্যসে বড়ুয়া ঙ্কু, সরকারী সুবিধাভোগী ও কথিত বৌদ্ধ নেতাদের দ্বারা প্রণীত আইনের খসড়াটি ধর্ম মন্ত্রনালয়ে পাঠানোর ১০দিনের মধ্যে ওয়েভ সাইটে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ইমেইলে মতামত চাওয়াটা হাস্যকর, কারণ দেশের কয়জন বৌদ্ধ ইমেইল ব্যবহার করে সচেতন ব্যক্তিদের মনে হয় জানা নাই, কাল ক্ষেপন না করে আইনটি প্রত্যাহার করা হউক।

প্রজ্ঞাপাল ভিক্ষু বলেন, এই আইনটি প্রত্যাহার করে পুনরায় আইন করা হলেআমরা সহযোগীতা করব অবশ্য সেই আইনের উৎস হতে হবে ত্রিপিটক প্রচলিত বৌদ্ধ রীতিনীতি অনুযায়ী

নিক্সন বড়ুয়া সিডিএ বলেন, এই আইন অবিলম্বে প্রত্যাহার করে পরে সকলবৌদ্ধদের একত্রিত করেসবার সম্মতি নিয়েসকল শ্রেনীর পেশাজীবিদেরসমন্বয়ে আইন হবে যদি এই আইন প্রত্যাহার করা না হয়তাহলে সারাদেশেরবড়ুয়া বৌদ্ধ জনগোষ্ঠী একসাথে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব

উদীয়মান শিক্ষাবিদ জুয়েল বড়ুয়া বলেন, ধর্মীয় গ্রন্থ ও প্রতিরূপ দেশের পারিবারিক আইনের সমন্বয়ে বৌদ্ধ আইন করা বাঞ্চনীয়। উক্ত আইন বাতিল করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা চাইলে এখনও নতুন করে উদ্যোগ নিতে পারে।

রিয়েল বড়ুয়াবা::আন্দোলনের বোধিপাল বড়ুয়া,  , প্রকৌশলী বিজয়তালুকদারমানবাধিকার কর্মী ইন্দ্রসেন বড়ুয়াসুনয়ন বড়ুয়া বিএইচএ সহআরও অনেকেই বক্তব্যে সবাই উক্ত আইনের বিরোধিতা করে  সমালোচনাকরে বলেনএই আইন বড়ুয়াদের নিশ্চিহ্ন করবেবড়ুয়াদের নিজ পরিবারেরমধ্যে সংঘাত তৈরি করেসমাজে ফায়দা লুঠতেই এই আইন করা হচ্ছে এমনকিবৌদ্ধদের ধর্মীয় গুরু ভিক্ষু সমাজের মতামত নেয়ার প্রয়োজন মনে করেননিঅন্যদিকে উক্ত আইনের উৎস কি সেটা কোথাও উল্লেখ নাই

সভায় বক্তারা সবাই এই আইনটি প্রত্যাহার করার আহ্বান জানান যদি আইনকরতে সরকার বাধ্যই করে থাকেন তাহলে দেশের সবস্থানের বৌদ্ধ সমাজেরগণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের বৌদ্ধ ভিক্ষুআইনজীবিসাংবাদিকরাজনীতিবিদ,সমাজকর্মীসংগঠনিক নেতৃবৃন্দদেরকে একসাথে নিয়ে আইন করলে সেটা টেকসই হবে। নচেৎ বড়ুয়া সমাজ ধ্বংস হয়ে যাবে অচিরেই। এই আইন প্রত্যাহার না করলে বৌদ্ধ সমাজ একযোগে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে

সভায় সম্মিলিত বৌদ্ধ সমাজের ব্যানারে দেশের সর্বত্র বৌদ্ধ সমাজে মানববন্ধন,গণস্বাক্ষর কর্মসূচী  প্রতিবাদ সহ প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলীপি স্থানীয়টিএনও কিংবা জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দেয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়সেই সাথে ঢাকা  চট্টগ্রামে প্রেস ক্লাবের সামনেও মানববন্ধন সহ সংবাদসম্মেলন করার প্রস্তাব করা হয় উপস্থিত সবাই একমত হয়ে উক্ত কর্মসূচী গুলোকরার ব্যবস্থা করবে বলে আশ্বাস দেন