রাউজান নিউজ

বান্দরবানে র‌্যাগ-ডে উদযাপন করতে গিয়ে অশ্লীল অটোগ্রাফ: ফেসবুকে চলছে নিন্দার ঝড়!

বান্দরবান প্রতিনিধিঃ 

র‌্যাগ-ডে তে সহপাঠীদের টি-শার্টে অশ্লীল কথা লিখে সেইসব ছবি ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন বান্দরবানের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। ছবিগুলো ভাইরাল হয়ে পড়লে নিন্দার ঝড় উঠেছে জেলার ফেসবুক ব্যবহারকারীদের মধ্যে। শিক্ষকদের উপস্থিতিতে এ ধরনের অশ্লীলতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরাও।

ছবিগুলো পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বিদায়ী এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা গত (২৭-মার্চ) এই অটোগ্রাফ ইভেন্টের আয়োজন করেছেন। সেখানে কয়েকজন শিক্ষার্থী সহপাঠীদের টি-শার্টে অশ্লীল মন্তব্য লিখেছেন। একই টি-শার্টে মন্তব্য লিখতে দেখা গেছে প্রতিষ্ঠানটির ইংরেজি বিভাগের একজন শিক্ষককেও। শিক্ষকের ছবি দেখে বোঝা যাচ্ছে ঘটনাটি বান্দরবান ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের। একজন শিক্ষিকাকেও টি-শার্টে অটোগ্রাফ দিতে দেখা গেছে ছবিগুলোতে।

এ ব্যাপারে বান্দরবান ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ লে. কর্নেল রেজাউল ইসলাম জানান, প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় উপলক্ষে ২৮ মার্চ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছিলো। র‌্যাগ-ডে নামে কোনো অনুষ্ঠানের অনুমোদন দেয়া হয়নি। কেউ যদি এরকম কিছু পালন করে থাকে তবে তারা নিজেদের উদ্যোগেই করেছে। শিক্ষকদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে তিনি জানান, কোনো কোনো শিক্ষার্থীর সাথে কোনো শিক্ষকের আলাদা সখ্য থাকলে সেটাও তাদের নিজেদেরই ব্যাপার। প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে দোয়া মাহফিল ছাড়া আর কিছু আয়োজিত হয়নি।

এদিকে ছবিগুলো ভাইরাল হয়ে পড়ায় নিন্দার ঝড় উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক আবদুল সফুর লিখেছেন, ‘প্রথমে দুঃখ প্রকাশ করছি ওমর ফারুক ভাইয়ের মত একজন রেসপন্সিবল ব্যক্তিকে এমন একটি পোস্ট দিতে হলো। এরপর ধন্যবাদ জানাই এ ধরনের জঘন্যতম একটি ঘটনা উন্মোচন করার জন্য। তবুও বলব থুথু উপরের দিকে ছিটাতে আবার নিজের হয়ে ফিরে আসে। আমাদের জেলা আমাদের অহংকার। গুটিকয়েক শিক্ষক কিংবা শিক্ষার্থীদের জন্য পুরো জেলার বদনাম হতে পারেনা। বিদ্যপীঠের দোষ কি, বিদ্যাপীঠতো কেবল উঁচু উঁচু দালান মাত্র। এ দালানে থাকা মানুষগুলোর নৈতিকতার অবক্ষয় হলে সেটাতো কিছু করার থাকেনা। একটা পবিত্র স্থানকে যারা কলংকিত করতেছে এদের সর্বোচ্চ বিচার হওয়া উচিত।

ফারুক আহমেদ নামের এক অভিভাবক লিখেছেন, একটি বিদ্যালয়ের পরিবেশ এরকম হলে আমরা বড় হতাশ হয়ে যাই। শিক্ষার্থীরা না হয় ভুল করতে পারে, কিন্তু শিক্ষকরা এসব কাজে বাধা না দিলে জাতির ভবিষ্যত অন্ধকার।