রাউজান নিউজ

রাউজানে ঝুঁকিপূর্ণ ‘রাউলি’ সেতু দিয়ে মানুষের পারাপার!

আমির হামজা (রাউজান নিউজ)ঃ

আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ এর কথায় অাছেন রাউলি রাস্তা হয়ে রাউজানের মূল উৎপত্তি। এই কথার কতটা সত্য অনেকেই জানা অাছে অনেকেই আবার নেই।প্রথম বার নির্মাণের বেশ কিছু বছর মধ্যেই ফাটল ভেঙ্গে সেতুটি এখনো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অাছেন, যাতায়াতে করছেন তিন ইউনিয়নের হাজারো মানুষ। বিগত ২৬ বছরে একবারও সংস্কার করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। রাউজান উপজেলা খৈয়াখালী গ্রামের খালটির ওপর নির্মিত সেতুটি বিগত দুই যুগেরও বেশি সময়ে ধরে সংস্কার না করায় তিন ইউনিয়নবাসীর চরম দুর্ভোগে পড়েছে। রাউলি সেতুটি প্রায় দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। তিন ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেতুটি পারাপার হচ্ছে। এ সেতুটি দিয়ে বেশ কিছু স্থানে সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম একমাত্র মাধ্যম। এটির পশ্চিম প্রান্তে হয়ে, পৃর্বগুজরা ইউনিয়ন, পাপাপাশি বাগোয়ান ইউনিয়ন অন্য দিকে পৃর্ব দিক হয়ে ৯নং পাহাড়তলী ইউনিয়ন এলাকা। সেতুর পাশে ঐতিহ্য বাহি ফারিকুল বাজার হাট যার অন্যতম যোগাযোগব্যবস্থার কারণে হচ্ছে রাউলি সেতু, সড়কে বিগত যুগ যুগ সময়ে কাজ না হওয়াতে বাজারটি বিলিন হতে যাচ্ছে! অাগের মত জমজমাট এখন আর হাট মিলেনা। এদিকে বেশ কিছু শিক্ষার্থীদের যাতায়াত করতে হয় এই সেতু দিয়ে তার মধ্য পৃর্বগুজরা সিনিয়ার মাদ্রাসা, খৈয়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খৈয়াখালি উচ্চ বিদ্যালয়সহ অারো বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।

খৈয়াখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, আশিষ বণিক রাউজান নিউজকে বলেন, ১৯৯১ দিকে সেতুর দুই পাশে বেশ কিছু অংশ ভেঙ্গে যান, কিন্তু সেই সময়ে কিছু সময় জোড়াতালি দিয়ে যানবাহন ও সাধারণ মানুষ চলাচল করতেন, কিন্তু সংস্কার না করাতে দিরে দিরে সেতুটি একমাত্র যোগাযোগব্যবস্থা চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়েন। এদিকে কষ্ট করে সেতুটি পার হতে হয় সেতুটি  ভেঙ্গে পড়ায় প্রায়ই সময় শিক্ষার্থীও স্থানীয় লোকজনকে দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়। বেশকিছু শিক্ষার্থীরা বলেন, দুর্ঘটনার ভয়ে বিদ্যালয়ের যেতে ইচ্ছে হয় না তাদের। শিক্ষার্থীদের দাবি দ্রুত যেন নতুন করে, সেতু নিমার্ণ করা হয়।

স্থানীয় লোকজন জানান, এই গ্রামের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া খাল পার হওয়ার জন্য গ্রামের বাসিন্দারা বিগত ২৬-২৭ বছর আগে খালটির সেতু  ভেঙ্গে গেলেও, কোন রকম বাঁশের কাট দিয়ে যাওয়া-অাসা হয়। পরে দীর্ঘদিনেও আর মেরামত না করায় সেতুটি ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন এই সেতুটির উপর দিয়ে দেড়শতাধিক ছাত্রছাত্রী ও সহস্রাধিক মানুষ জীবনের ঝুকি নিয়ে চলাচল করছে। নদীতে পড়ে গিয়ে শিক্ষার্থীদের বই,খাতা ও পোশাক ভিজে গেলে সেদিন আর স্কুলে যাওয়া হয় না। সেতুটি পার হওয়ার সময় বাঁশের খুটিগুলো নড়ে। এ সময় ভীত হয়ে শিশুরা থেমে থেমে সেতু পার হয়। আবার কেউবা হাত ধরে বাবা মা সেতু পার করে দেয়।ইউপি সদস্য, আশুতোষ বড়ুয়া রাউজান নিউজকে বলেন, সেতুর উপর দিয়ে তিনটি ইউনিয়নের সঙ্গে যোগাযোগ করতে এ সেতুটি পার হয়ে যেতে হয়। তেমনি একটি বৌদ্ধ বিহার স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানসহ ছাত্রছাত্রীদের ঝুঁকি নিয়ে কষ্ট করে সেতুটি পার হতে হয়। দুই যুগের বেশি সময় অাগেও যদি সেতুর নষ্ট  হয় বিভিন্ন অংশ, পরে ভেঙে যাওয়ায় স্থানীয়রা বাঁশের কাঠ দিয়ে সংস্কার করে এপার ওপার চলাচল করে। এ সেতুটি নতুন র্নির্মাণের জন্য প্রকল্প দেওয়া আছে বলে এমন সুত্র পাওয়া যায়। প্রকল্প অনুমোদিত হলে দ্রুত কাজ শেষ করা হবে এমনটাই অাশা করা যাচ্ছে।