রাউজান নিউজ

রাউজান থানা পুলিশ ৬ দিনের নবজাতককে মায়ের বুকে ফিরিয়ে দিল

কামরুল ইসলাম বাবু (রাউজান নিউজ):

রাউজানে পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে ৬ দিন দাদীর হেফাজতে থাকা নবজাতককে মায়ের বুকে ফিরিয়ে দিয়েছে রাউজান থানা পুলিশ। ২৮ নভেম্বর সোমবার সকালে রাউজান থানা থেকে ছয় দিনের এই কন্যা শিশুকে মায়ের বুকে তুলে দেয় রাউজান থানার ওসি কেপায়েত উল্লাহ। এই কাজে মূখ্য ভুমিকা পালন করেছেন রাউজান পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর আলমগীর আলী। ওসি কেপায়াত উল্লাহ জানান, দুই পক্ষের জেদাজেদিতে জীবন ঝুকিতে ছিল এই নবজাতক। তিনি বলেন এই ঘটনাটিকে একটি পক্ষ অপহরণ নাটক সাজাতে চেষ্টা করেছিল।
জানা যায়, গত ২০ নভেম্বর রাউজান নোয়াপাড়া পাইওনিয়ার হাসপাতালে জন্ম নেয়া এই শিশুটি এতদিন মায়ের পরশ থেকে বঞ্চিত হয়েছিল বউ শাশুড়ীর দ্বন্দ্বের কারণে। জন্ম দেয়া মা শিশুটি দাদির কাছে দিয়ে নিজের বাপের বাড়ীতে চলে যাওয়ায় শিশুটি এতদিন দাদির হেফাজতে ছিল।


রাউজানের পৌর কাউন্সিলর আলমগীর আলী রাউজান নিউজকে জানায়, তার ওয়ার্ডের গহিরা বড়ুয়াপাড়ার প্রবাসী ছোটন বড়ুয়ার স্ত্রী পপি বড়ুয়ার সাথে তার শাশুড় শাশুড়ীর মতানৈক্যের কারণে গত ছয় মাস আগে অন্তসত্বা অবস্থায় বাপের বাড়ীতে চলে গিয়েছিল। ২০ নভেম্বর সন্তান সম্ভাবা পপিকে নোয়াপাড়ার হাসপাতালে ভর্তি করায় তার বাপের বাড়ীর লোকজন। প্রসুতি মা সন্তান জন্ম দিলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গত ২৪ নভেম্বর মা ও শিশুকে ছাড়পত্র দেয়। এর আগে পপির প্রবাসী স্বামী ছোটন বড়ুয়া স্ত্রী ও নবজাতককে হাসপাতাল থেকে গহিরায় নিজেদের বাড়ীতে নিয়ে যেতে তার বাবা সুলাল বড়ুয়াকে বলে রাখেন। একই সাথে হাসপাতালের চিকিৎসার খরচ বাবদ ভগ্নিপতি রাজু বড়ুয়ার মাধ্যমে ৩৯ হাজার টাকা পাঠায়। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়া সন্তানসহ পপিকে স্বামীর বাড়ীতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলে পপি স্বামীর ঘরে যেতে অনিহা দেখায়। এখানেই দুই পক্ষের মধ্যে বাদানুবাদ চলে। এই বির্তকের মাঝে হাসপাতালের বাইরে এসে পপির কোল থেকে শাশুড়ী মঙ্গলী বড়ুয়া তার নাতনীকে কোলে নিয়ে গাড়িতে উঠে যায়। পপি গহিরা না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থেকে সন্তানকে শাশুড়ীর কাছে রেখে মা বাবার সাথে চলে যায় বাপের বাড়ী রাঙ্গুনিয়ায়। এই পরিস্থিতিতে আজ সোমবার পর্যন্ত এই নবজাতক ছিল দাদির সাথে গহিরার বাবার বাড়ীতে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পপি বড়ুয়ার রাঙ্গুনিয়ার পদুয়া ইউনিয়নের কুল গ্রামে দীপাল বড়ুয়ার কন্যা। গত বছরের ফেব্র“য়ারী মাসে গহিরা পৌর এলাকার সুলাল বড়ুয়ার পুত্র প্রবাসী ছোটন বড়ুয়ার সাথে তাদের বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের তিন মাসের মাথায় স্বামী ছোটন বড়ুয়া প্রবাস জীবনে চলে গেলে শাশুড়ীর সাথে পপির ভুলবুঝাবুঝি হয়। একারণে সন্তান সম্ভবা পপিকে তার বাবা কয়েকদিনের জন্য বেড়াতে নেয়ার কথা বলে সাথে নিয়ে যায় শাশুড় বাড়ী থেকে। পরবর্তী সময়ে পুত্রবধুকে ফিরে আনতে শাশুড় শাশুড়ী একাধিক বার রাঙ্গুনিয়া গেলেও পপি আসতে রাজি হয়নি। এরই মধ্যে ২০ নভেম্বর সন্তান সম্ভাবা পপিকে তার মা বাবা রাঙ্গুনিয়া থেকে এনে হাসপাতালে ভর্তি করার সন্তান জন্ম দেয়ার পর এই ঘটনাটি ঘটে। অবশ্য এই ঘটনার জের ধরে দুই পক্ষের মধ্যে সন্তানের দাবি নিয়ে দেন দরবার শুরু হয়। সর্বশেষ পপির তার সন্তানকে উদ্ধারে রাউজান থানায় আবেদন করে। এই ঘটনাটি শুনে গহিরার ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলমগীর আলী বিশেষ ভূমিকা রেখে দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ করেন। তার এই উদ্যোগের ফলে শিশুটিকে থানা পুলিশের মাধ্যমে মায়ের কোলে তুলে দিতে সক্ষম হয়। এ বিষয়ে কথা বললে কাউন্সিলর আলমগীর আলী বলেন শিশুটি মায়ের বুকে দিতে পারায় আমি আনন্দিত। শিশুটির জীবন ঝুঁকিমুক্ত হলো।