রাউজান নিউজ

রাউজানে কৃষিজীবিদের আগ্রহ পমেটো নিয়ে একই গাছে ফলন পাওয়া যাবে আলু টমেটো

মীর আসলাম (রাউজান নিউজ)ঃ

রাউজানের এক কৃষিজীবি কুমিল্লায় বিএসডিসির কৃষি গবেষনাগারে নতুন উদ্ভাবিত ব্যতিক্রমী একটি লতা গাছ থেকে দুই ধরণের সবজি উৎপাদনের দিকে মনোযোগি হয়েছে। নুরুল আজিম নামের ওই কৃষক জানায় তিনি উপজেলা কৃষি বিভাগের সহয়তায় গত বছর চারটি টবে চাষ করে সাফল্য পাওয়ার পর এবার দশটি টবে সবজি উৎপাদনের কাজ করছেন। কৃষি বিভাগ থেকে জানা যায়, একটি নিদিষ্ট প্রক্রিয়ায় লতাগাছের কলম তৈরী করে একই গাছ থেকে উৎপাদন করা যাবে টমোটে ও আলু। কৃষি গবেষনাগার উদ্ভাবিত এই লতা গাছের নাম রেখেছে পমেটো।
রাউজান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন জানিয়েছেন নতুন উদ্ভাবিত লতা গাছের উপড়িয়াংশে ফলন হবে টমোটো আর শিকড়ে ফলন দেবে আলু। তিনি জানান টবের মধ্যে এই ফসলের আবাদ করা খুবই সহজ। পরীক্ষামূলক ভাবে এই গাছটি গত বছর লাগানো হয়েছিল কৃষক নুরুল আজিমের মাধ্যমে। গহিরার দলই নগর গ্রামে কৃষক নুরুল আজিম এবছর দশটি টবে এই বীজ বপন করেছেন। তার কাজে সবধরণের সহায়তা দিচ্ছে উপজেলা কৃষি বিভাগ।
উপজেলা কৃষি বিভাগের এক কর্মকর্তা সনজিৎ কুমার সুশীল এর সাথে কথা বলে জানা যায়, কুমিল্লায় বিএডিসির গবেষণায় আলু (পটেটো) ও টমেটোর চারার সাথে গ্রাফটিং পদ্ধতিতে (জোড়া কলম)‘পমেটো’র উৎপাদনে কৃষি খাতে ব্যাপক আশার সঞ্চার করেছে। একই গাছের শেকড়ে আলু ও কান্ডে টমেটোর বাম্পার ফলনে কৃষি গবেষনায় অভূতপূর্ব ও বিস্ময়কর সাফল্য পাওয়ায় এখন সারা দেশে এর বিস্তার ঘটানোর চেষ্টা চলছে।


সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) অধীন কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলার সৈয়দপুর উদ্যানে বীজতলায় গবেষণা চালিয়ে ‘পমেটো’ নামের এই নতুন চাষ পদ্ধতির উদ্ভাবন করা হয়।
সূত্র মতে এই লতা গাছের মাটির উপরের কান্ডে ফলেছে উন্নতমানের বড় আকারের অনেক টমেটো। মাটির নীচের অংশের শেকড়ের ভাজে ভাজে ফলেছে বড় আকারের আলু। এক গাছে আলু ও টমেটো ফলান দেখে ওই কাজে থাকা গবেষকসহ উদ্যান সংশ্লিষ্ট সবাই উদ্ভাবনী সাফল্যের আশাবাদি হয়ে উঠে। এরপর বিএডিসি এই প্রযুক্তিতে দুই জাতের সবজি চাষ দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এই প্রক্রিয়ায় ফলন পেতে প্রথমে, ডায়মন্ড জাতের আলু এবং পার্শ্ববর্তী স্থানে হাইব্রিড সফল’ ও ‘উফশী রতন’ জাতের টমেটোর বীজতলায় আলু ও টমেটোর বীজ বপন করা হয়।
বীজতলা তৈরীর পূর্বে আলুর জমিতে ২ থেকে ৩বার হালকা সেচ দিতে হয় এবং টমেটোর বীজতলায় ঝাঁঝরি দিয়ে একইভাবে সেচ দিতে হয়। বীজতলায় উভয় চারার বয়স ২২ দিন হওয়ার পর গ্রাফটিং পদ্ধতিতে আলু চারার সাথে টমেটোর চারার গ্রাফটিং বা ফাঁটল জোড় কলম করা হয়। গ্রাফটিং করার ৫ দিন ও ২০ দিন পর আবারো সেচ দিতে হয়। আলু চারার সাথে টমেটোর চারার গ্রাফটিং বা ফাঁটল জোড় কলম করার ১২ দিনের মাথায় আলু চারার সাথে টমেটোর জোড় কলমে ফুল ফুটে। পরবতীতে এ গাছের মাটির নীচে আলু ও উপরে ফলে টমেটো। কৃষি বিভাগের মতে একই গাছে টমেটো ও আলুর উৎপাদনে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি ফলন পাওয়া গেছে। সূত্র জানায় এ চাষ স্বল্প পরিসরে ভবনের ছাদে করা যায়।