রাউজান নিউজ

রোহিঙ্গারা এখন স্থানীয়দের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে

পলাশ বড়ুয়া (উখিয়া) প্রতিনিধি

রোহিঙ্গাদের কারণে সবদিক দিয়ে নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত হচ্ছে স্থানীয়রা। এদিকে উখিয়া-টেকনাফের ইউনিয়ন পরিষদ গুলোতে গত ২০ সেপ্টেম্বর থেকে বন্ধ রয়েছে জন্ম নিবন্ধন কার্যক্রম। ফলে পাসপোর্ট ইস্যু, ভিসা সংক্রান্ত কাজে, চিকিৎসার প্রয়োজনে বিদেশ যেতে বাধাগ্রস্থ রোগীরা, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন চাকরিতে, নতুন ভোটার তালিকা নাগাদে, নবজাতক শিশুর জন্মনিবন্ধন সহ প্রবাসে অবস্থানরতরা পড়েছে বিপাকে।

মালেয়শিয়ায় অবস্থানরত বিপন বড়–য়া মুঠোফোনে বলেন, পূর্বে হাতের লেখা জন্ম নিবন্ধন আছে তার। নতুন পাসপোর্ট ইস্যু করতে ডিজিটাল এবং ইংরেজী ভার্সনে জন্ম নিবন্ধন প্রয়োজন। এখন রোহিঙ্গাদের কারণে এ কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছে। একই অভিমত ব্যক্ত করেন ফ্রান্স প্রবাসী সুজন বড়–য়ার।

হলদিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ শাহ আলম বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে জন্ম নিবন্ধন কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ রয়েছে। বৃহস্পতিবার বৈঠকের সিদ্ধান্ত মতে অতি স্বত্ত্বর এ কার্যক্রম পুনরায় চালু হবে বলে রেজিষ্টার জেনারেলের বরাত দিয়ে তিনি জানান। তিনি বলেন, শুধুমাত্র জন্ম নিবন্ধন কার্যক্রম ছাড়া পরিষদের অন্যান্য কার্যক্রম স্বাভাবিক গতিতে চলছে।

কক্সবাজার-টেকনাফ শহীদ এটিএম জাফর সড়কের দুপাশে অধিকাংশ জায়গা জুড়ে ছিলো সবুজ বনানী। যা কেটে কালো পলিথিনের সারি সারি ঝুপড়ি ঘর তৈরি করে কলঙ্করেখা এঁকে দিয়েছে মিয়ানমারের রোহিঙ্গারা। যতই দিন যাচ্ছে, বাড়ছে ঝুপড়ি ঘরের সংখ্যা।

কক্সবাজার (দক্ষিণ) বন বিভাগের উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন, রোহিঙ্গারা অনুপ্রবেশ অব্যাহত থাকায় দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে বনভুমি দখল। রোহিঙ্গাদের দখলে যাওয়া পিএফ ও রিজার্ভ বনাঞ্চলের পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার একর। বন মন্ত্রণালয় সংসদীয় কমিটির তথ্যমতে শুধুমাত্র বাগান এবং বনাঞ্চলের ক্ষয়ক্ষতি ১৫০ কোটির উর্ধ্বে বলেও তিনি জানান।

সুত্রে জানা যায়, রোহিঙ্গারা উখিয়া টেকনাফের ৭ টি সংরক্ষিত বন ধ্বংস করেছে। এরমধ্যে উখিয়ার কুতুপালং, বালুখালী, বালুখালীর ঢালা, বাঘঘোনা ও তানজিমার ঘোনা এবং টেকনাফের পুটবনিয়া ও কেরণতলীর সংরক্ষিত পাহাড় উজাড় করেছে।

রোহিঙ্গারা অশিক্ষিত। তাদের পরিবেশ ও জীব বৈচিত্র্য সম্পর্কে কোন ধারনা নেই। এরা যেখানে খাবার খায় তারই পাশে মূত্র ত্যাগ করে। যেখানে ঘুমায় সেখানেই ময়লা ফেলে। এরা পাহাড় কেটে, মূত্র ত্যাগ করে, আর্বজনা ফেলে পরিবেশকে বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিচ্ছে দাবী পরিবেশবাদীদের।

প্রতিদিন রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে পরিদর্শনে আসছে সরকারের মন্ত্রীসহ দেশি-বিদেশী গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ। সড়ক গুলোতে দেখা দিচ্ছে পরিবহন সংকট। প্রোটোকলের কারণে সে চাপ আরও বাড়ছে। ফলে যানজট লেগে থাকছে দীর্ঘসময়। বাড়ছে ভাড়াও। অন্যদিকে কক্সবাজার-টেকনাফে সড়কটি এমনিতেই আঁকাবাকা এবং সরু। ত্রাণ তৎপরতায় নিয়োজিত প্রচুর ট্রাক, বাস ও প্রাইভেট গাড়ির কারণে চাপ বেড়ে গেছে এ সড়কে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার চাইলাউ মারমা বলেন, লাখ লাখ রোহিঙ্গা  সাথে কিছু দুষ্কৃতিকারী আসতে পারে। তবে অপরাধীদের চিহ্নিত করতে ক্যাম্প গুলোতে পুলিশ টহল এবং গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করা হয়েছে।

এবিষয়ে কক্সবাজার সিভিল সার্জন আব্দুস সালাম বলেন, ডায়রিয়া সহ অন্যান্য রোগ বালাই মহামারি আকার ধারণ করতে পারে। সরকারি-বেসরকারী এনজিও সংস্থা গুলো নিয়মিত চিকিৎসা সেবায় কাজ করছে। যাতে রোগ বালাই মহামারি রূপ নিতে পারে। তবে সবচেয়ে জরুরী পর্যাপ্ত স্যানিটেশন ও বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবহার নিশ্চিত করা।