রাউজান নিউজ

রাউজানে হাত-পা, মুখ বেঁধে শ্বাসরোধ করে রফিক আহমেদ নামের এক বৃদ্ধাকে হত্যা

আমির হামজা (রাউজান নিউজ) ঃ

রাউজানে কদলপুর ইউপি রফিক আহমেদ চৌধুরী (৭০) কে হাত-পা, মুখ বেঁধে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
নিহত বৃদ্ধ রফিক আহমেদ চৌধুরী কদলপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তসলিম উদ্দিন চৌধুরীর চাচা ও ৪নং ওয়ার্ডের মৃত আব্দুল হাকিম চৌধুরীর পুত্র। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২৮ জুলাই শুক্রবার সকালে নির্মাণ শ্রমিকরা কাজ করতে গেলে দরজা খোলা পেয়ে প্রবেশ করে রক্তাক্ত অবস্থায় হাত-পা বাধা লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তারা স্থানীয় লোকজন ও ইউপি চেয়ারম্যানকে খবর দেয়।


নিহত বৃদ্ধের ভাতিজা ও ইউপি চেয়ারম্যান তসলিম উদ্দিন থানায় ফোন করলে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করে। স্থানীয়দের ধারণা রাতের কোন এক সময় তাকে হত্যা করা হয়েছে।
তার শয়ন কক্ষে মুখে গেঞ্জি, হাত-পা গামছা ও প্লাষ্টিক রশি দিয়ে বাধা ছিল। খাটে রক্ত লেগে আছে। সেখান থেকে নিচে টেনে নামিয়ে হাত পা বেধে শ্বাস রোধ করে হত্যা করা হয়। ঘরের আলমারী ও দরজা খোলা পাওয়া যায়। আলমারীর জিনিসপত্র তচনচ অবস্থায় পাওয়া যায়। টেবিলের উপর বেশ কিছু জায়গা-জমির দলিলত্র রক্তাক্ত অবস্থায় পুলিশ উদ্ধার করে।


পরিবারে সূত্রে জানাযায়- আগেও দুই বার তাদের ঘর চুরি হয়, প্রথম বার এক লক্ষ টাকা ২য় বার ষাট হাজার টাকা নিয়ে যায়। সেই সময় রফিক আহমেদ বাসায় ছিলেন না।
ইউপি চেয়ারম্যান তসলিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, সকালে নির্মাণ শ্রমিকরা আমাকে জানালে আমি ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে চাচার শয়ন কক্ষে হাত-পা, মুখ বাধা লাশ দেখতে পায়। পরে পুলিশকে খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
রাউজান থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই নুর নবী বলেন. এটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড মনে হচ্ছে। এ হত্যাকান্ড তিন-চারজন ছাড়া সম্ভব নয়। ধারণা করা হচ্ছে কিছু করতে (জায়গা-জমি সংক্রান্ত) তাকে বাধ্য করা হয়েছে। প্রথমে ভয় দেখানো হয়েছে, তিনি বাধ্য না হওয়ায় কষ্ট দিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
হত্যাকারীরা তার পরিচিত হবে বলে ধারণা তার। কারণ হিসেবে তিনি দেখছেন যেহেতু দরজা ভাঙা ছাড়া দুরর্বৃত্তরা প্রবেশ করেছে। এটি চুরি কিংবা ডাকাতির জন্য প্রবেশ বলে মনে হচ্ছে না। যেহেতু টেবিলের উপর রক্তাক্ত অবস্থায় জায়গা-জমির দলিলপত্র পাওয়া গেছে।
রাউজান থানার ওসি কেপায়েত উল্লাহ বলেন, হাত-পা-মুখ বাধা বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার করেছি। ধারণা করছি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। বেশকিছু জমির দলিলপত্র পাওয়া গেছে।


নিহতের ভাতিজা ইউপি চেয়ারম্যান এই হত্যাকান্ডের সুষ্ট তদন্ত পূর্বক দোষীদের শাস্তি দাবী করেছেন। এদিকে স্বজনরা বলেছেন পুরো বাড়িতে তিনি একা বসবাস করতেন। তার স্ত্রী, পুত্র চট্টগ্রাম নগরীর বাসায় থাকেন। তিনি কদলপুরের গ্রামের বাড়ি দেখাশোনা করতেন একাই। তিনি দুই পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের জনক। দুই পুত্রের মধ্যে একজন নগরীতে ব্যবসা করেন। অপরপুত্র প্রতিবন্ধী। রাউজান-রাঙ্গুনিয়া সার্কেল সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জাহাঙ্গির বলেন, আমরা বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছি। শুক্রবার দুপুর দুইটায় আমি ঘটনাস্থলে থেকে লাশ উদ্ধার করেছি। তবে এটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড বলে তিনি মন্তব্য করেন। এই হত্যাকান্ডে মামলার পক্রিয়া চলছে বলে জানান ইউপি চেয়ারম্যান তসলিম উদ্দিন।