রাউজান নিউজ

চুয়েটের শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার সচেতন সাফল্য অর্জন দেলোয়ার জাহান সোহাগ

আমির হামজা (রাউজান নিউজ)ঃ

চুয়েটের শিক্ষার্থী সোহাগ একজন সাহসি ও মেধাবী তার মেধাকে কাজে লাগিয়ে, নিজের ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার নিয়ে কাজ করে তিনি আজ সফল ব্যাক্তির পরিচয় দিয়েছেন, শূধু তাই নয় শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার সচেতন করা লক্ষে সেই কাজের জন্য পর্যাপ্ত সময় বের করে আজ সফল ব্যাক্তি হিসেবে পরিচিত লাভ অর্জন করেছেন দেলোয়ার জাহান সোহাগ। একজন মানুষ হিসাবে সফলতা জীবনে খুব মানুষেরই আসে। কিন্তু সোহাগ তার কঠোর পরিশ্রমী এবং কর্ম উদ্যোগী মনোভাব রয়েছেন বলে তার জীবনে একমাত্র সফল ব্যক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পেরেছেন। জীবনে সফল হতে কে না চায়। আপনি হয়তো ভাবছেন আপনার ভাগ্য যদি সোহাগ এর মতো হতো, কিন্তু আমাদের উদ্যোগকে কাজে লাগিয়ে আর মেধার পরিচয় দিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

একজন সফল ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে পরিচিত করতে চাইলে সবার প্রথমে যে কাজটি আমাদের করতে হবে সেটি হল জীবনের লক্ষ্য ঠিক করা। ঠিক শিক্ষার্থীরা ক্যারিয়ার সচেতন হয়ে উঠার ফিছনে যে কাজ একাধারে ও পাশাপাশি অন্যের সহযোগিতা পেয়ে আজ নিজেকে একজন সফল ক্যারিয়ার সচেতন অর্জনে করছে বলে, আজ সোহাগ ব্যক্তিগত ভাবে নিজের ক্যারিয়ার গড়ার পাশাপাশি আমাদের এদেশের তরুণদের জন্য কাজ করতে চাই।


ছাত্র জীবনে অনেক ধরনের অভিজ্ঞতা আসবে যা একজন শিক্ষার্থী হিসবে ক্যারিয়ার লাইফে অনেক কাজে দিবে। ঠিক চুয়েটের শিক্ষার্থীদের জন্য দসোহাগ’ উদ্যোগ গ্রহণ করেন যার উদ্দেশ্য ছিল ক্যারিয়ার নিয়ে সচেতন করা, বিশ্ববিদ্যালয় পড়া-লেখার শেষের দিকে অনেক শিক্ষার্থী হতাশয় হাবু-ডুবু খেতে থাকেন। তারা বুঝে উঠতে পারে না তারা আসলে কোন দিকে যাবেন, কোন দিকে গেলে তাদের জীবনের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবেন, সোহাগ এসব শিক্ষার্থীদের জন্য সঠিক পথ খুঁজিয়ে জীবনকে সাজিয়ে তুলার জন্য, কয়েকজনের প্রচেষ্টায় চুয়েটে ক্যারিয়ার ক্লাব গঠন করেন, যার উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার নিয়ে সচেতন করা।

সোহাগ নিজের কাজের প্রতি সিরিয়াসভাবে এবং মনোযোগ দিয়েছে বলে সেই ক্যারিয়ার কাজটিতে সফলতা পেয়েছেন। সোহাগ এর মতো যদি আমরা যে কাজই করি না কেন সেই কাজকে অনেক বেশি পরিমাণে ভালোবাসতে হবে। ভালোলাগা তৈরি করতে হবে। মানুষ ভালোলাগার বিষয়টির জন্য অনেক কষ্ট করতেও রাজী হয়। কারণ ভালোলাগার মূল্য অনেক বেশি। আপনি যদি ক্যারিয়ার গড়তে ভালোবাসেন তাহলে আপনি এর প্রতি এতটাই সিরিয়াস থাকবেন যতটা না অন্য কাজের প্রতি থাকবেন। আর যে কাজ সিরিয়াসভাবে এবং মনোযোগ দিয়ে করবেন স্বাভাবিকভাবে সেই কাজটিতে সফলতা আসতে বাধ্য।

কারণ স্বপ্ন শুধু দেখার বিষয় নয় । স্বপ্ন পূরণ করার মাঝেই আছে পূর্ণ সার্থকতা। জীবনে সেই ব্যাক্তি সার্থক এবং সফল হয়েছেন যে তার স্বপ্ন পূরণে বাস্তবায়ন করেছেন। মানুষ অনেক সপ্নই দেখে । সব হয়তো পূরণ করা সম্ভব হয় না। তবে চেষ্টা করতে দোষ কি? অন্তত বলতে পারবো, আমি আমার স্বপ্ন পূরণের চেষ্টা করেছি । কিন্তু একবার ভেবে দেখেছেন? আপনি এই স্বপ্ন পূরণ করার জন্য কি চুয়েটের সোহাগ এর মতো কখনো চেষ্টা করেছেন? তাহলে ভাবুন কিভাবে আপনার স্বপ্ন পূরণ হবে। ভাবুন কিভাবে আপনি সফল হবেন? অনেকে হয়তো চেষ্টা করতে চেয়েও পর্যাপ্ত গাইডলাইন এর অভাবে বা অন্য কোন সমস্যায় করতে পারেননি । অথবা চেষ্টা করেও সফল হননি । কিন্তু মনকে একটা সান্ত্বনা দেয়া যায় “আমি চেষ্টা করেছি ” আপনি যদি সোহাগের মত হবার চেষ্টা যদি করে থাকেন, হতে না পারলেও অন্তত একজন মানুষ হিসবে মানুষের ক্যারিয়ার চিন্তাকারী হিসবে ছোট পরিচিতি লাভ করবেন, আর দেলোয়ার জাহান সোহাগ যদি হতে চান আপনাকে পরিশ্রম করতে হবে তাহলেই আপনি একদিন সাফল্য অর্জন করতে পারেন।

সোহাগ সাথে কথা বলে রাউজাননিউজ’কে জানান,
আমি সবসময় চেয়েছি চুয়েটের জন্য কিছু করতে। বড় পরিসরে ভাবলে দেশের জন্যই করতে চাই সবসময়। আমি সবসময় চেয়েছি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্যারিয়ার সচেতন হোক। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শেষের দিকে অনেক শিক্ষার্থী হতাশ হয়ে যায়। তারা বুঝে উঠতে পারে না তারা আসলে কোন দিকে যাবে। কিন্তু আমি চেয়েছি শিক্ষার্থীরা ক্যারিয়ার সচেতন হয়ে উঠবে এবং শুরুতেই একটা লক্ষ্য স্থির করবে। শুধু লক্ষ্য স্থির ই নয় তারা সে লক্ষ্য অর্জনে কি করবে সেটাও তারা বুঝে উঠবে। আমি চুয়েটে শিক্ষার্থী দের মধ্যে ক্যারিয়ার সচেতনতা গড়ে তোলার জন্য গত ১ বছর ধরে আমার টিম নিয়ে কাজ করছি। আমাদের কয়েকজনের প্রচেষ্টায় চুয়েটে ক্যারিয়ার ক্লাব গঠিত হয় যার উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার নিয়ে সচেতন করা। লো সিজিপিএ থাকলেও যে একজন মানুষ অন্য দক্ষতা যেমন যোগাযোগ দক্ষতা, উপস্থাপনা দক্ষতা, কুইজ দক্ষতা, গবেষণা দক্ষতা, উদ্যোক্তা দক্ষতা। এর মাধ্যমে নিজেকে সফলতার স্বর্ন শিখরে নিয়ে যেতে পারে সেটা উপলব্ধি করানোর চেষ্টা করেছি। আমি ব্যক্তিগত ভাবে সবসময় মনে করি “একজন মানুষ কে শুধু সিজিপিএ এর ভিত্তিতে নয় তার দক্ষতার ভিত্তিতে বিচার করা দরকার। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পুঁথিগত বিদ্যা মুখস্থ করার জন্য আসিনি, আমরা এখানে এসেছি দক্ষতার অর্জনের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত হতে।”

কিন্তু দক্ষতা অর্জনের চর্চা বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে সত্যি খুব কম হয়। বেশির ভাগ শিক্ষার্থী শুধু সিজিপিএর পিছনে ছুটে কিন্তু প্রফেশনাল জীবনে যে স্কিল গুলো দরকার তার পেছনে খুবই কম ছুটে।

আমরা গত ৭ এপ্রিল চুয়েটে প্রথমবারের মত “ক্যারিয়ার ফেস্ট করলাম “। যেখানে ৯ টি কোম্পানি অংশগ্রহণ করে। এই প্রোগ্রাম টা করার জন্য আমরা প্রায় ৩৫ টি কোম্পানিতে গিয়েছি। সেখানে উচ্চপদস্থ কর্পোরেট কর্মকর্তাদের সাথে ক্যারিয়ার নিয়ে অনেক আলাপ করেছি, অনেক কিছু জেনেছি। আমার মনে হয়েছে তারা যা চাই তা বিশ্ববিদ্যালয়ের শুধু মাত্র একাডেমিক পড়াশুনা থেকে আসলেই অর্জন করা সম্ভব না। এজন্য আমাদের নিজ থেকে আরো দক্ষতা অর্জন করা প্রয়োজন।
আমি সবসময় চেয়েছি চুয়েটের শিক্ষার্থীরা মধ্যে ক্যারিয়ার সচেতনতা সৃষ্টি হোক। সত্যি এখন অনেক ভাল লাগে এটা দেখে যে, চুয়েটের শিক্ষার্থীরা এখন অনেক বেশি ক্যারিয়ার সচেতন তার প্রমাণ আমরা ক্যারিয়ার ফেস্টে দেখেছি। আসলে আমি এই পরিবেশ টা আনার জন্যই অনেকদিন ধরে নিরলস পরিশ্রম করছি। আমার টিমের সদস্যরা বিশেষ করে আব্দুল মাতিন এবং এ. এইচ. এম. সাইফুল্লাহ আমাকে এ ব্যাপারে সবসময় সহযোগিতা করেছে। তারা সবসময় আমার পাশে থেকেছে।

আমি স্বপ্ন দেখি চুয়েটের শিক্ষার্থীরা একদিন এক একজন এক এক বিষয়ে ব্র্যান্ড হবে। আমি স্বপ্ন দেখি তারা একদিন দেশের অন্যান্য শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন দেখাবে। আমি ব্যক্তিগত ভাবে নিজের ক্যারিয়ার গড়ার পাশাপাশি এদেশের তরুণদের জন্য কাজ করতে চাই। ৭ এপ্রিল ক্যারিয়ার ফেস্ট কিছু অংশ নিচের ভিডিওটি দেখুন।