রাউজান নিউজ

নতুন ক্লাসে নতুন বই, এটি পড়াশোনার আগ্রহ বাড়ায় : প্রধানমন্ত্রী

রাউজান নিউজ ডেক্স :
নতুন বছরে সারাদেশে ‘জাতীয় পাঠ্যপুস্তক উৎসব’ উদযাপনের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিনামূল্যে শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যপুস্তক বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন।

এ সময় শিক্ষার মান নিয়ে সরকারের সমালোচনা না করে পরামর্শ দিয়ে সরকারকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

সকালে গণভবন থেকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে বই বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার মান আগের থেকে বেড়েছে, ভালো হচ্ছে পরীক্ষার ফল।

পরে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দুটি অনুষ্ঠানসহ ডট বাংলা ডোমেইনের উদ্বোধন করেন তিনি।

এছাড়াও ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রর ৬ ঘণ্টা সম্প্রচার কার্যক্রমের উদ্বোধন করে শেখ হাসিনা বলেন, মুনাফার চিন্তা না করে, জনসেবায় কাজ করতে হবে।

নিজ নিজ অবস্থান থেকে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে কাজ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

সকালে গণভবনে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে থাকা নিজের দুই নাতনির হাতেও নতুন বই তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা নতুন বইয়ের জন্য সকাল থেকে বসে ছিল।

আগামীকাল-রোববার থেকে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বই বিতরণ করা হবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বছর ৪ কোটি ২৬ লাখ ৩৫ হাজার ৯২৯ জন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩৬ কোটি ২১ লাখ ৮২ হাজার ২৪৫ খানা বই বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন ক্লাসে নতুন বই, এটি পড়াশোনার আগ্রহ বাড়ায় তাছাড়া অনেক বাবা-মায়ের বই কেনার পয়সা থাকে না এজন্য আমরা বছরের প্রথম দিনই শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যে বই তুলে দিচ্ছি।

গত ২০০৯ সাল থেকে আসছে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ২২৫ কোটি ৪৩ লাখ বই বিনামূল্যে বিতরণ করা হয় জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিনামূল্যে এতো বিপুল সংখ্যক বই বিতরণ বিশাল ব্যাপার, আর এটা সফলতার সঙ্গে করা হচ্ছে এমনকি ২০১৩, ১৪, ১৫ সালে বিএনপি-জামাতের তাণ্ডবের আন্দোলনের মধ্যেও সঠিক সময়ে বই পৌঁছে দেয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা পড়াশোনার মান উন্নত করছি যাতে আমাদের ছেলেমেয়েরা বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে পারে।

পড়াশোনার মান নিয়ে যারা প্রশ্ন তোলেন তাদের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনা বলেন, একদিনে সব হয় না—তাছাড়া মানের মাত্রা কী? যারা সমালোচনা করে তারা বলতে পারেন মাত্রা কী? একই সঙ্গে শুধু সমালোচনা না করে কোন কোন এলাকায় মান অর্জন হচ্ছে না সেখানে সহযোগিতা করতে পারেন।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসেনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মো. মোস্তাফিজুর রহমান বক্তৃতা করেন।

অনুষ্ঠানে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ কর্মসূচি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীকে ‘বিশেষ উত্তরীয়’ পরিয়ে দেন শিক্ষামন্ত্রী এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম ও মুখ্য সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারি ইহসানুল করিম এবং অন্যান্য সচিবগণ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

রোববারের অনুষ্ঠান সূচি:

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ১ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৯টায় রাজধানীর আজিমপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজে কেন্দ্রীয় কর্মসূচি হিসেবে ‘জাতীয় পাঠ্যপুস্তক উৎসব-২০১৭’ উদ্বোধন করবেন।

সরকারি সূত্র জানায়, অনুষ্ঠানে রাজধানীর ৩১টি বিদ্যালয়ের পাঁচ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী যোগদান করবে।

এর আগে এনসিটিবি চেয়ারম্যন অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা জানান, সরকার ২০১৭ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে ৩৬ কোটি ২১ লাখ ৮২ হাজার ২৪৫টি পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করবে।

তিনি জানান, সারাদেশে ৪ কোটি ২৬ লাখ ৩৫ হাজার ৯২৯ জন ইবতেদায়ী, দাখিল, দাখিল ভোকেশনাল, এসএসসি ভোকেশনাল, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর মধ্যে বিনামূল্যে এসব বই বিতরণ করা হবে।

এনসিটিবি চেয়ারম্যান বলেন, এই প্রথমবারের মতো শিক্ষকদের জন্য সৃজনশীল প্রশ্নপত্র পদ্ধতি সমাধানের গাইড লাইন প্রকাশ করে তা সরবরাহ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য ৬০ লাখ ১ হাজার ২৪টি ও মাধ্যমিক শিক্ষকদের জন্য ৪৬ লাখ ৬৬ হাজার ৬৬৪টি গাইড বই তৈরি করা হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ২০১৬ শিক্ষাবর্ষে ৪ কোটি ৪৪ লাখ ১৬ হাজার ৭২৮ জন প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, ইবতেদায়ী, মাধ্যমিক, দাখিল ও কারিগরি শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩৩ কোটি ৩৭ লাখ ৬২ হাজার ৭৭২টি পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করা হয়েছিল।

এনসিটিবি চেয়ারম্যান জানান, গত ৮ বছরে প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, ইবতেদায়ী, মাধ্যমিক, দাখিল ও কারিগরি শিক্ষার্থীর মধ্যে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণে ৫ লাখ ৬৫ হাজার ৮৮৬ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে।