রাউজান নিউজ

পাকিস্তান-বাংলাদেশের মাঠ কাঁপানো ফুটবলা সুধির পালিত এখনও স্বপ্ন দেখেন ফুটবলের সোনালী ভবিষৎতের

মীর আসলাম (রাউজান নিউজ):

পাকিস্তান আমল থেকে স্বাধীন বাংলাদেশের বড় বড় মাঠে ফুটবল খেলায় মাঠ কাঁ^পানো খেলোয়ারদের একজন রাউজানের সুধির পালিত। তিনি এখন বয়সের ভারে নুয়ে পড়লেও এখনো স্বপ্ন দেখেন আমাদের ফুটবলের ভবিষৎ নিয়ে। মনে করে স্কুল পর্যায় থেকে খেলোয়ার সৃষ্টি করা গেলে দেশের মানুষের জনপ্রিয় ফুটবল খেলা আবারো সোনালী যুগে ফিরে যেতে পারবে। ১৯৩৫ সালে রাউজানের পালিত পাড়ায় জন্ম নেয়া এই খেলোয়ার এখন বয়সের ভারে নুড়ে পড়লেও এখনো একটুও কমেনি ফুটবলের প্রতি তাঁর অনুরাগ ভালবাসা। ফুটবল খেলার প্রসঙ্গ এলেই গড় গড় করে বলেন সেই খেলোয়ার জীবনের জৌলসের কথা। দেশের এই কৃতি ফুটবলার ১৯৫৬ সালে যখন রাউজান আর আর এ সি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন তখন থেকে বিদ্যালয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হতো জোনের খেলা। সেই খেলায় অংশ নিয়ে সুধির পালিত নিজের প্রতিভার পরিচয় দিতে থাকে। তার নেতৃত্বে গঠিত আর আর এ সি উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলোয়ার দল সেই সময় চট্টগ্রাম বিভাগীয় পর্যায়ে খেলে বিভাগের সব দলকে চমকে দিয়েছিলেন। কৃতি এই ফুটবলারের খেলার কৌশল দেখে ঐ সময় তাঁকে দলে ভিড়াতে সচেষ্ট হয়েছিলেন অনেক খ্যতিনামা সরকারী বেসরকারী ফুটবল টিম। পর্যায়ক্রমে তিনি খেলা খেলেন চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যাল হাই স্কুল, সিটি কলেজ এর হয়ে। দাপটের সাথে তার খেলার যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে চট্টগ্রাম জেলা দল, বিভাগীয় দল হয়ে তিনি তৎকালিন পূর্ব পাকিস্তান জাতীয় দলের অর্ন্তভুক্ত হয়ে তারাকা ফুটবলার হিসাবে সারা দেশের মানুষের কাছে স্বীকৃত হন। সুধির পালিত ফুটবল প্রসঙ্গে আলাপ চারিতায় বলেন ৬৫ সালে তার চট্টগ্রাম বিভাগীয় দলের হয়ে খেলে তার দল ঢাকা বিভাগের সাথে যৌথ চ্যাম্পিয়ন হয়। এর আগে রাজশাহীকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তার দল। তিনি বলেন সেকালের কৃতি ফুটবলার কমলেন্দু, পরিতোষ, নিরঞ্জন,টুটুল, মেখোয়া, শংঙ্কর, ফয়েজ, এয়ার মোহাম্মদ, বশির, মুকুলদের কথা এখনো তাঁর মনে পড়ে শিহরন জাগে। ইচ্ছে হয় আবার সেই সোনালী দিনে ফিরে যেতে। স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে এই কৃতি ফুটবলার বলেন, স্বাধীনতা বিরোধীরা তার এক ভাইয়ে গলা কাটার পর থেকে নিরাপত্তার অভাবে চলে গিয়েছিলেন ভারতে। সেখানে দেশের স্বজনহারা মানুষের মনের দুঃখ কষ্ট লাঘবের চেষ্টায় প্রীতি ফুটবল আয়োজন করা হয়েছিল। সেই খেলায় আমরা অংশ নিয়েছিলাম সেখানকার স্থানীয় টিমের সাথে। আমাদের মধ্যে ছিল বিমল কর, লক্ষণ, মন্টু, নিরঞ্জন, মুকুল, সুকমল এর মত খেলোয়াড়গণ। স্বাধীন বাংলাদেশে তিনি খেলেছেন পিডাব্লিও, রেলওয়ে, ঢাকা ওয়াণ্ডাসের মত নামী প্রতিষ্ঠানের হয়ে। পিডাব্লিও’তে ছিলেন অধিনায়ক। রাউজানের প্রয়াত বরদা চরণ পালিতের পুত্র সুধির পালিত এখন বয়সের ভাড়ে নুয়ে পড়লেও মনের দিক থেকে মনে হয় এখনো তিনি মাঠ কাঁপানো একজন শিকারি ফুটবলার। তিনি এই যুগে ফুটবলের মানোন্নয়নে স্কুল পর্যায় থেকে খেলোয়ার তৈরীর প্রয়োজনীয়তার কথা তলে ধরেন।