রাউজান নিউজ

“খোকার সাধ” – সি দ্দি ক আ হ মে দ

সি দ্দি ক আ হ মে দ :

ছোট ছোট ভাইবোনেরা আজ আমি তোমাদের সঙ্গে একটা কবিতা নিয়ে ভাব বিনিময় করব। কবিতাটি তোমাদের খুব জানা। অনেকেরই কন্ঠস্থ। পাঠ্যপুস্তকের তোমরা কবিতাটি পড়ে থাকবে। কবিতাটির নাম ‘খোকার সাধ’। কবিতাটি লিখেছেন কাজী নজরুল ইসলাম। তিনি বাংলাদেশের জাতীয় কবি। বিদ্রোহি কবি হিসেবে তিনি খুবই পরিচিত। বিপ্লবী কবিতা লেখার কারণে তাকে জেল ও খাটতে হয়েছে। তোমরা যখন আরো বড় হবে বিদ্যাবুদ্ধিতে আরো সমৃদ্ধ হবে তখন কেন এবং কী কারণে কাজী নজরুল ইসলাম জেল খাটতে হয়েছিল তা জানতে পারবে।

কাজী নজরুল ইসলাম বড়দের জন্য অনেক লেখা লিখেছেন। তোমাদের জন্যও অনেক কবিতা, ছড়া ও গান লিখেছেন। তোমাদের জন্য তিনি গান লিখেছেন তা ও তোমাদের অজানা নয়। মাঝে মধ্যে তোমরা তার লেখা গান ও গাও। তাঁর গান গেয়ে ও তোমাদের কেউ কেউ পুরষ্কার ও পেয়েছে নিশ্চয়ই। শুধু গান কেন তাঁর লেখা ছড়া কবিতা আবৃত্তি করে ও পুরষ্কার ও পেয়ে থাকবে। আমি জানি কাজী নজরুল ইসলামের নাম তোমাদের কাছে নতুন করে বলতে হবে না। তাঁর লেখা ছড়া ও কবিতা ‘ঝিঙে ফুল’ ‘খুকি ও কাঠবিড়ালি’, ‘খাদু দাদু’, ‘প্রভাতী’, ‘লিচু চোর’ ও ‘সংকল্প’ তোমাদের অনেকেরই মুখস্থ থাকার কথা। তোমাদের মা-বাবা কিংবা শিক্ষক-শিক্ষিকা অথবা পরিবারের বড় জনরা এই কবিতাগুলো তোমাদের নিয়ে তোমাদের সঙ্গে ভাববিনিময় করব। চলো তার আগে সবাই মিলে ছড়া কবিতাটি আবার পড়ি। আমি হব সকাল বেলার পাখি সবার আগে কুসুম বাগে উঠব আমি ডাকি সূর্য্যি মামা জাগার আগে উঠব আমি জাগি হয়নি সকাল ঘুমাও এখন মা বলবেন রেগে বলব আমি আলসে মেয়ে ঘুমিয়ে তুমি থাকো হয়নি সকাল তাই বলে কি সকাল হবে নাকো। আমরা যদি না জাগি মা কেমনে সকাল হবে তোমার ছেলে উঠলে মাগো রাত পোহাবে তবে। নিশ্চয়ই খুব মজা নিয়ে ছড়া কবিতাটি তোমরা পড়লে। আসলে কবিতাটি তোমাদের নিয়ে লেখা, তোমাদের আনন্দ দেয়ার জন্যও লেখা। তাহলে কেন আমি বলতে গেলাম এই কবিতাটি নিয়ে তোমাদের সঙ্গে ভাব বিনিময় করব। কারণ নিশ্চয় কিছু আছে। তোমরা, ছোটরা,‘খোকার সাধ’ কবিতাটি পাঠ করে কিংবা আবৃত্তি করে যে মজাটা পাও আমরা, বুড়োরা প্রায় কাছাকাছি আনন্দ পাই। তোমাদের মত এক খোকার ইচ্ছে চমৎকারভাবে কবি প্রকাশ করেছেন। সকাল সকাল বিছানা না ছাড়ার জন্য মায়ের নিষেধ যে খোকাটি মানতে চাচ্ছো না বরং মাকে আলসে মেয়ে বলে মৃদু অভিযোগ দাখিল করল এটা কিন্তু মাকে অমান্যতা নয় বরং খোকাটির ধারণা যে, সে যদি না জাগে তা হল বুঝি সকালেই হবে না। পাখির কলবরের সঙ্গ তার কলবর না মিশলে সকালের শুভ্র উন্মোচনের কোন মাধুর্য্যই বুঝি থাকলো না । মায়ের আদরের সন্তান মাকে কেবল সেই কথাটি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলছে……..
‍”আমরা যদি না জাগি মা কেমনে সকাল হবে
তোমার ছেলে উঠলে মাগো রাত পোহাতে হবে”

ছোট ভাইবোনেরা, তোমরা যারা কবিতাটি বার বার পড়েছো, কবিতাটি আবৃত্তি করে পুরষ্কার পেয়েছে তোমরা কি কখনো ভেবে দেখেছো কবিতাটির নাম কবি ‘খোকার সাধ’ রাখলেন কেন। গোটা কবিতায় একটা ‘খোকা সাধ’ ইচ্ছা কথা বলা হয়েছে। খোকাটি সকাল বেলার পাখি হতে চায়, সবার সে বাগানের পাখির মত ডাক দিতে চায়। সে জানিয়ে দিতে চায়, সে না জাগলে সকালই হবে না। এটা তো এক দুরন্ত খোকার অসাধারণ ই প্রকাশ। ইচ্ছের ফাঁকে ফাঁকে কবিতাটিতে খোকার সংকল্পের কথাও আছে। ইে মেঘে থেকে ভেসে বেড়ায় আর সংকল্প দুনিয়াকে নাড়িয়ে দেয়ার প্রতিজ্ঞা। একটু গভীর ভাবে দেখলে কবির মনোভাব গোপন থাকে না। কবি কিন্তু সকল খোকাখুকিকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবার ডাক দিয়ে গেছেন। দেশের জাগরণে অগ্রণী ভূমিকা রাখার জন্য সংকল্প গ্রহনে ডাক দিয়ে গেছেন কবি। কাজী নজরুল ইসলাম কবিতাটি লিখেছেন যখন বাংলাদেশসহ সমগ্র উপমহাদেশের বৃটিশ শাসনের অধীন। এই ব্রিটিশরা কারা তোমরা যখন বড় হবে তখন জানতে পারবে। কী কৌশলে না ব্রিটিশরা প্রায় দু’শ বছর এই উপমহাদেশকে অধীন করে রেখেছিল। এই উপমহাদেশের মানুষ বৃটিশকে এই দেশ থেকে তারাতে অনেক আন্দোলন করেছে, অনেক সংগ্রাম করেছে, অনেক জেল জুলুম সহ্য করেছে। কোনো কোনো সময় এদেশের মানুষ অস্ত্র হাতে বৃটিশদের সঙ্গে যুুদ্ধ করেছে। তোমরা নিশ্চয়ই সূর্যসেনের নাম শুনে থাকবে। চট্টগ্রামের বিপ্লবী সন্তান সূর্য সেন তাঁর সাথীদের নিয়ে বৃটিশের বিরুদে অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছিলেন দেশকে স্বাধীন করার জন্য। এটা জালালাবাদ যুদ্ধ নামে ইতিহাস খ্যাত। সূর্য সেনের নেতৃতে ¡বিপ্লবীরা চট্টগ্রামকে তিন দিন স্বাধীন রাখতে পেরেছিলেন। সেটা আমাদের জাতীয় জাগরণের এক বড় ঘটনা।
তোমরা বড় হলে এই যুদ্ধের ইতিহাস সবি¯ার জেনে নিবে আশা করি। তেমনি এক প্রেক্ষাপটে কাজী নজরল ইসলাম ‘খোকার সাধ’কবিতাটি লিখেছিলেন। আসলে এই কবিতার মাধ্যমে শিশু-কিশোরকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবার ডাক দিয়ে মাতৃভূমিকে স্বাধীন করার অংশ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছিলেন। ঐ যে তিনি লিখলেন- আমরা যদি না জাগি মা কেমনে সকাল হবে তোমার ছেলে ওঠলে মাগো রাত পোহাবে তবে। এখানে সকাল বলতে কবি বুঝতে চেয়েছেন স্বাধীন অর্জন। অধীনের কালো রাতকে ছিন্ন করে আলোর ফুলকি ফোটানোর জন্য প্রয়োজন ছোট বড় সকলের অংশগ্রহণ। কবি খোকাখুকিকেও এ র প সংকল্প গ্রহণের জন্য তাগাদা ও স্মরণ করে দিয়েছেন এই কবিতায়। ‘খোকার সাধ’ কবিতাটির ব্যাপকত্ব এখনো হারিয়ে যায়নি। পারিপার্শ্বিকতা বুঝে ওঠতে পারলে তোমাদেরও তাই মনে হবে।