রাউজান নিউজ

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র নাম শয়তান

রাউজান নিউজ আর্ন্তজাতিক ডেক্স॥

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যে এমন একটি অস্ত্র তৈরি করতে মত্ত হয়েছিলেন সে বিষয়টি কিন্তু গোপন রাখেননি তিনি। এইতো কিছুদিন আগেই প্রাণঘাতী এসএস ১৮এস বা শয়তান নামে পরিচিত ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রতিস্থাপনের কথা জানিয়েছিলেন তিনি। প্রথমবারের মতো সেই অস্ত্রের ছবিও প্রকাশ করেছে রাশিয়া। ধারনা করা হচ্ছে রাশিয়ার পারমাণবিক বোমাটি একটি মাত্র আঘাতেই গোটা দেশ বা জাতির অস্তিত্ব ধ্বংস করে দিতে পারে। খবর যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যম ডেইলি স্টার এর।

যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যম ডেইলি স্টার জানিয়েছে, শয়তানকে প্রতিস্থাপন করে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্রের তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন হতে যাচ্ছে আরএস ২৮ সারমাত বা শয়তান-২। ধারণা করা হচ্ছে, এর এতটাই ক্ষমতা যে একটি আঘাতেই ফ্রান্স বা টেক্সাসের মতো বিরাট এলাকা ধ্বংস করে দিতে পারে। প্রথমবারের মতো ক্রেমলিনের প্রকৌশলীরা অতি উচ্চ পারমাণবিক ক্ষমতাসম্পন্ন এই ক্ষেপণাস্ত্রটির একটি ছবি প্রকাশ করেছেন। মেকিয়েভ রকেট ডিজাইন ব্যুরোর প্রধান নকশাবিদরা সম্প্রতি ইন্টারনেটে এই ছবি প্রকাশ করেন। ২০১৮ সালে এটির উৎপাদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

সারমাত বা শয়তান-২ নামের ওই ক্ষেপণাস্ত্রের ছবির সঙ্গে একটি বার্তাও প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, রাশিয়ার সরকারের জারি করা ডিক্রি অনুযায়ী ২০১০ সালে দেশটির প্রতিরক্ষা দপ্তর এই ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির নির্দেশ দেয়। ২০১২-১৩ সালে এর পরিকল্পনা ও নকশা প্রণয়ন করা হয়। রাশিয়ার কৌশলগত বাহিনীর জন্য একটি কার্যকর পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অংশ হিসেবেই এই ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা হচ্ছে।

মস্কোর বিশেষজ্ঞরা দাবি করছেন, শয়তান-২ নামের এই ক্ষেপণাস্ত্র পশ্চিমা বিশ্বের রাডারের চোখ ফাঁকি দিতে সক্ষম। এটি ১০ হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারবে এবং রাশিয়া থেকে লন্ডন বা যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব-পশ্চিম উপকূলে সরাসরি আঘাত হানতে সক্ষম। ২০২০ সালের মধ্যে এই নতুন অস্ত্র আঘাত হানার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে যাবে। আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, তখনকার বিশ্বের পরিস্থিতি বর্তমানের চেয়ে আরও খারাপ হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পূর্ব উপকূলকে ধ্বংস করার বিষয়ে ভ্লাদিমির পুতিনের হুঁশিয়ারি এই অস্ত্রের মাধ্যমে বাস্তবে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূত্রপাত করতে পারে।