রাউজান নিউজ

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমরা আপনার কাছের স্বীকৃতি চাই

মীর আসলাম (প্রধান সম্পাদক.রাউজাননিউজ)

বাঙালী জাতির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশকে বিশ্বকবি রবিন্দ্র নাথ ঠাকুরে মনের রঙে রাঙিয়ে সোনার বাংলা রূপ দেয়া। আজ বঙ্গবন্ধু কন্যা, দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লক্ষ্য জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নের পাশাপাশি এদেশকে রূপান্তর করবেন ক্ষুধা,দারিদ্রমুক্ত আধুনিক ডিজিট্যাল বাংলাদেশে। আওয়ামীলীগ নেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা ক্ষমতায় আসার পর থেকে এই ভিশন নিয়ে নিরলস ভাবে কাজ করছেন। এগিয়ে যাচ্ছেন স্বীয় লক্ষ্যে। তার এই পরিকল্পনায় দেশ জুড়ে চলছে উন্নয়নের জোয়ার। দেশে তথ্য প্রযুক্তির নেটওয়ার্ক সৃষ্টি করছেন তৃণমূল পর্যায়ে। তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত আওয়ামীলীগের যোগ্য নেতাকর্মী ও মন্ত্রীসভার সদস্যদের ব্যবহার করে চেষ্টা করছেন ২০২১ সালের মধ্যে তাঁর মনের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে। নিজের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে ইতিমধ্যে দলীয় সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি করেছেন। শুনা যাচ্ছে অল্প সময়ের মধ্যে মন্ত্রীসভায়ও করা হবে রদবদল।
আগেই বলা হয়েছে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর লক্ষ্য উদ্দেশ্য হচ্ছে জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নের পাশাপাশি এদেশকে ক্ষুধা, দারিদ্রমুক্ত আধুনিক ডিজিট্যাল বাংলাদেশে পরিণত করা। এই লক্ষ্য নিয়ে তিনি এই পর্যন্ত যেসব নেতা ও মন্ত্রীসভা সদস্য নির্বাচন করেছেন, তাদের মধ্যে প্রায় সকলেই যোগ্যতার পরিচয় দিয়ে কাজ করেছেন।
এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই ভিশনকে সফল করতে তার দল আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ ও নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা যার যার অবস্থান থেকে কাজ করে
গেলেও, এক্ষেত্রে বিশ্বস্ততা, আন্তরিকতা, মেধা ও ত্যাগের ব্যতিক্রম নজীর স্থাপন করেছেন রাউজানের আওয়ামীলীগের এমপি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী। যিনি রেলপথ মন্ত্রনালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবং রাউজান নির্বাচনী আসন থেকে তিন মেয়াদে নির্বাচিত আওয়ামীলীগের সাংসদ এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ইন্টারপার্লামেন্টারী ইউনিয়ন (আইপিইউ) এর মানবাধিকার বিষয়ক কমিটির সভাপতি।
স্মরণ করা যেতে পারে স্বাধীনতার পর রাউজানের আসনটি আওয়ামীলীগের ছিল প্রয়াত সাংসদ অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ এর মাধ্যমে। ৭৫ পরবর্তী সময় থেকে আওয়ামীলীগের দখলে থেকে এটি হাতছাড়া হয়ে যায়। ১৯৯৬ সালে এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী দলে যোগদিয়ে আওয়ামীলীগের হারানো আসনটি পূনরুদ্ধার করেন। বর্তমানে তিনি এই আসনে তিন মেয়াদে নির্বাচিত সাংসদ। বিগত প্রায় দুই দশকে রাউজানের সাংসদ নিজ এলাকায় দেড় হাজার কোটি টাকার বেশি উন্নয়ন কাজ হয়েছে। এসব কাজের মাধ্যমে তিনি রাউজানকে সত্যিকারের সোনার বাংলা ও ডিজিট্যাল উপজেলার রূপে রূপায়িত করে বঙ্গবন্ধু ও তার কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেছেন।
এই সাংসদের মেধা ও শ্রমে রাউজানের দুই প্রান্তে দুটি পিংক সিটি, ২৬ মেঘাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা হয়েছে। সকল জীর্ণশীর্ণ প্রশাসনিক, শিক্ষা,স্বাস্থ্যসহ সকল প্রতিষ্ঠান ভেঙ্গে এই উপজেলায় গড়ে তোলা হয়েছে নতুন ভবন। বেকার সমস্যা সমাধানে প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে বিসিক শিল্প নগরী। যা ইতিমধ্যে একনেক সভায় অনুমোদিত হয়েছে। উপজেলার প্রতিটি সড়ক পথ, ব্রিজ কালবাট করা হয়েছে নতুন করে। চট্টগ্রাম রাঙ্গামাটি ও চট্টগ্রাম কাপ্তাই সড়ক পথের দুপাশে(রাউজান অংশে) লাগানো হয়েছে কয়েক হাজার ফলজ,বনজ, ঔষধি গাছের চারা। উপজেলা প্রতিটি সড়কে লাগানো হয়ে সড়ক বাতি। এখন এখানে প্রতিটি স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে শহীদ মিনার শোভা পাচ্ছে। শিক্ষার্থীরা মাল্টিমিডিয়া পদ্ধতিতে ক্লাস রুমে শিক্ষা গ্রহণ করছেন। মাস্টার দা সূর্য সেনসহ ইতিহাস খ্যাত রাউজানের গুনিদের নামে এখানে বিভিন্ন সড়ক ও প্রতিষ্ঠানের নাম করণ করা হয়েছে। নির্মিত হয়েছে তাঁদের নামে স্মৃতি তোরণ। বঙ্গবন্ধু পুত্র শহীদ শেখ কামালের স্মৃতি রক্ষায় প্রতিষ্ঠা করেছেন জাতীয় মানের রেস্টহাউস ও অডিটরিয়াম। নামকরণ করা হয়েছে শেখ কামাল কমপ্লেক্স। রাউজানবাসী মনে করেন এটি অতি অল্প সময়ের মধ্যে উদ্বোধন করবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। রাউজানের সাংসদ চুয়েট পর্যন্ত রেল লাইন সম্প্রসারণের কাজ করছেন। এটি নিয়ে এখন প্রকল্প তৈরীর কাজ চলছে।
বলা যেতে পারে, রাউজান থেকে সত্যিকারের সোনারবাংলা ও ডিজিট্যাল উপজেলার রূপ উপভোগ করে গেছেন আমাদের মহামান্য রাস্ট্রপতি আবদুল হামিদ(মাননীয় স্পীকার থাকাকালীন সময়) এডভোকেট কয়েক বছর আগে। ওয়াসার পানির লাইন উদ্বোধন করতে এসে গত বছর এই রূপ দেখে গেছেন আওয়ামীলীগের সদ্য বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। মাস খানেক আগে রাউজানের প্রাকৃতিক, প্রশাসনিক ও সামাজিক অবকাঠামোগত রূপ ঘুরে ফিরে উপভোগ করে গেছেন সদ্য নির্বাচিত আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক ও সেতু বিভাগের মাননীয় মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এছাড়া রাউজানের উপর দিয়ে যেসব দেশি বিদেশি পর্যটক, মাননীয় মন্ত্রী, সাংসদদের মধ্যে যারা আসা যাওয়ায় থাকেন তারাও উপভোগ করেন রাউজানের ডিজিট্যাল রূপ।
যার মেধা, শ্রম আর ত্যাগের বিনিময়ে রাউজানের মত উপজেলায় জাতির পিতা ও তাঁর সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আপনার স্বপ্নের বাস্তবায়ন হয়েছে, সেই ত্যাগী নেতা এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি’র মূল্যায়ন কামনা করে রাউজানবাসী।
মমতাময়ী বঙ্গবন্ধু কন্যার কাছে রাউজানের সর্বস্তরের মানুষের প্রত্যাশা ও দাবি এখন একটাই, আমরা রাউজানের স্বীকৃতি চাই। আপনার স্নেহের পরশ পেতে চাই। আমাদের রাউজানের ত্যাগী নেতা এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি’র পুরুস্কার চাই, দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে ও মন্ত্রীসভায় তার বসার স্থান চাই। আমাদের বিশ্বাস, বিট্রিশ বিরোধী আন্দোলনের সুতিকাগার মাস্টার দা সূর্য সেন এর জন্মস্থান রাউজানের মানুষের এই প্রত্যাশাটুকু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিবেচনায় নিবেন। তাঁর মূল্যায়নে রাউজানের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হবে।